https://timenewsbangla.com

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে প্রসিকিউশন।
বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ সাজা দাবি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সাত আসামির বিরুদ্ধেই আনা চারটি অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষকে হত্যা ও আহত করার জন্য আসামিরা দায়ী। তাই কোনো ধরনের অনুকম্পা না দেখিয়ে তাদের সর্বোচ্চ সাজা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
প্রসিকিউশনের দাবি, আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামানো, আন্দোলন প্রতিরোধ, সহিংসতার পরিকল্পনা এবং কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা ও দমন-পীড়নে তাদের ভূমিকার প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন ফোনালাপ ও তথ্য-উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের যুক্তি অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকার অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে।
৪ আগস্ট থেকে এ মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। ছয় কার্যদিবসের যুক্তিতর্ক শেষে বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ তাদের বক্তব্য শেষ করে। এরপর পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম যুক্তিতর্ক শুরু করেন।
সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক। গত ২ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
এর আগে গত ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।