https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ভারতের তামিলনাড়ু এক্সপ্রেসের একটি সুটকেস থেকে নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ২৪ দিন পর সন্দেহভাজন এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ আগস্ট) মণিপুরের জিরিবাম জেলা থেকে যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন আসামের কাছাড় জেলার ২২ বছর বয়সী মানিক উদ্দিন লস্কর এবং ওড়িশার কেওনঝড় জেলার ২১ বছর বয়সী তার স্ত্রী ভগবতী মাঝি। মণিপুর ও তামিলনাড়ু পুলিশের যৌথ দল অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
গত ৫ আগস্ট আগ্রা ক্যান্ট স্টেশনে তামিলনাড়ু এক্সপ্রেস পৌঁছালে সাধারণ কামরায় পড়ে থাকা একটি লাল সুটকেস থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। পরে সরকারি রেলওয়ে পুলিশ সুটকেসটি খুলে মাথাবিহীন ও খণ্ডিত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে।
ফরেনসিক পরীক্ষায় নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হয়। তার নাম হায়াতুন নিশা, বয়স ৩৮ বছর। তিনি ওড়িশার বাসিন্দা এবং চেন্নাইয়ের কাছে গুডুভানচেরিতে বসবাস করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন।
তদন্তে নেমে চেন্নাই সেন্ট্রাল রেলওয়ে স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। সেখানে মানিক উদ্দিনকে লাল সুটকেসটি বহন করতে দেখা যায়। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ভগবতী। তাদের গতিবিধি অনুসরণ করে গুডুভানচেরির একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ।
ওই বাসা থেকে একটি বড় রান্নার পাত্রের ভেতর মরদেহের আরও কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়। এরপর নিখোঁজের ঘটনায় করা সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে শুরু হওয়া তদন্ত হত্যা মামলায় রূপ নেয়। দম্পতিকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে দেশজুড়ে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার মণিপুরের জিরিবাম জেলার কাশিমপুর এলাকায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার দুজনকে মণিপুরের স্থানীয় আদালতে হাজির করার পর ট্রানজিট ওয়ারেন্টের মাধ্যমে তামিলনাড়ুতে নেওয়া হবে। জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।