https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ায় গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যপথগুলো নতুন করে নিরাপত্তাঝুঁকিতে পড়েছে। এর মধ্যেই লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব এল-মানদেব প্রণালির কৌশলগত পেরিম দ্বীপ দখলে নেওয়ার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা।
হুথিদের অগ্রযাত্রা ও নতুন নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলে সামরিক সহায়তা চেয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সৈন্য পাঠানো বা সামরিক অভিযানে না গিয়ে রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
এদিকে ইরাকের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের প্রধান তেল পরিবহন ব্যবস্থা ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের একটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে রিয়াদ। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়ে বলেছে, ড্রোনটি ইরাক থেকে পরিচালিত হয়েছিল।
হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সৌদি আরব প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানিতে এই পাইপলাইনের ওপর নির্ভর করছিল। হামলার পর ইরাকের মাইসান প্রদেশের সেনাপ্রধান ও পুলিশ প্রধানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
একই সময়ে পেরিম দ্বীপ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ায় লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি ও বাণিজ্যপথে অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের খুচরা দামও প্রতি গ্যালন ৬ ডলার ছাড়িয়েছে।
এদিকে সংকট নিরসনে সোমবার ওমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাতটি শর্ত পূরণ না হলে সমঝোতা সম্ভব নয় বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।