যেকোনো পরিস্থিতিতে নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আইন মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের (ইউএনওডিসি) আয়োজিত মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোবিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, মানবপাচার অত্যন্ত গুরুতর, অমানবিক ও নিষ্ঠুর অপরাধ। পাচারকারীরা মানুষের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে বিপুল অর্থ উপার্জন করে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে সরকার কাজ করছে।

মানবপাচার প্রতিরোধে বিভিন্ন আইন সংশোধনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানবপাচারের সংজ্ঞাকে আরও বাস্তবসম্মত ও বিস্তৃত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের মানবপাচার আইনে এ ধরনের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৮৮৭ সালের জুয়া আইন সংশোধন করে অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রমকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে মানবপাচারবিষয়ক প্রোটোকল অনুসমর্থন করে। এরপর থেকেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে।

তবে মানবপাচার প্রতিরোধে কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক থাকলেও জনবল, অভিযোগকারীদের সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে জানান তিনি।

দেশে মানবপাচার আগের তুলনায় কমেছে দাবি করে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বেকারত্বের সংকট রয়েছে। তাই জীবিকার সন্ধানে মানুষকে বিদেশে যাওয়া থেকে আটকানো সম্ভব নয়।