যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরের সময়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ। বিশেষ করে যেসব অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনা শেষ হতে কয়েক দিন সময় লাগে, সেখানে ফলাফল নিয়ে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক তৈরির আশঙ্কা করছেন তারা।

আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। তবে অঙ্গরাজ্যভেদে ভোট গণনার নিয়ম ও সময় আলাদা হওয়ায় নির্বাচনের রাতেই সব আসনের চূড়ান্ত ফল নাও আসতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার মতো কিছু অঙ্গরাজ্যে চূড়ান্ত ফল পেতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।

সাবেক ডেপুটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি উপদেষ্টা কেইটলিন ডারকোভিচ বলেন, ভোট গণনার এই অপেক্ষার সময়কে ঘিরে সন্দেহ তৈরির সুযোগ থাকতে পারে। তার আশঙ্কা, ভোট শেষ হওয়ার পর বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ সামনে এনে ভোটযন্ত্র বা ব্যালট নিয়ে প্রশ্ন তোলা হতে পারে।

ব্রেনান সেন্টারের নির্বাচন ও সরকারবিষয়ক কর্মসূচির ভাইস প্রেসিডেন্ট ল্যারি নর্ডেন বলেন, ভোট গণনায় সময় লাগলেই অনিয়ম হয়েছে—এমন ধারণা তৈরি হতে পারে। তাই ভোট গণনার নিয়ম ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভোটারদের আগেই পরিষ্কার ধারণা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে ডাকযোগে ভোটের নিয়ম নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতে আইনি লড়াই হয়েছে। নতুন বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং আদালতের বিভিন্ন আদেশে অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রচলিত ডাকযোগে ভোটব্যবস্থা বহাল রয়েছে।

সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বেথ স্যানার বিদেশি প্রভাব ও সরাসরি নির্বাচনী হস্তক্ষেপকে আলাদা করে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, বিদেশি প্রভাবের মধ্যে প্রচারণা বা তথ্য ছড়ানো থাকতে পারে, কিন্তু ভোট গণনায় সরাসরি হস্তক্ষেপ আলাদা বিষয়।

২০২০ সালের নির্বাচনের পর অঙ্গরাজ্যগুলো নির্বাচন নিরাপত্তা ও ফল নিরীক্ষায় বিভিন্ন পরিবর্তন এনেছে। এবারের নির্বাচনে তাই ভোট গণনা, ফল যাচাই ও তথ্য প্রকাশের প্রক্রিয়া ঘিরে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।