রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় আগামী ৭ জুন রায় ঘোষণা করা হবে। ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় মামলাটির বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এরপর বিচারক মাসরুর সালেকীন রায়ের জন্য ৭ জুন দিন ধার্য করেন।
প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। অপর আসামি ও সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার অসুস্থ থাকায় হাসপাতাল থেকে আদালতে আসেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, সোহেল রানা শিশুটিকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করেন। তিনি বলেন, ১৬ জন সাক্ষীর বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা এবং অন্যান্য প্রমাণে আসামির অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। একই সঙ্গে স্বপ্না আক্তার ঘটনাটি ঘটতে সহায়তা করেছেন এবং বাধা দেননি বলেও রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ করে তাঁর শাস্তি দাবি করে।
রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানায়, ঘটনার সময় স্বপ্না আক্তার বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে রেখেছিলেন। পরে এক প্রত্যক্ষদর্শী সোহেল রানাকে ভবনের তৃতীয় তলা থেকে জানালা বেয়ে পালাতে দেখেন। তদন্তে পাওয়া বিভিন্ন আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী যুক্তি দেন, সোহেল রানা নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি মাদকাসক্ত। তাই তাঁর জবানবন্দিকে পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। তবে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, ঘটনার সময় কিংবা জবানবন্দি দেওয়ার সময় তিনি মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন না।
গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর সোহেল রানা বাসার শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর স্ত্রীকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়েছিল।
সোহেল রানা প্রথমে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন বলে পুলিশ জানায়। পরে আদালতে তিনি দাবি করেন, ‘ডলার’ নামের আরেক ব্যক্তি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তবে পুলিশি তদন্তে বা মামলার নথিতে ওই ব্যক্তির নামের কোনো উল্লেখ নেই বলে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন।