১৪তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে ২৬টি স্টারলিংক উপগ্রহ স্থাপনের পরিকল্পনা; চাঁদ-মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা
প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের তিন বছর পর পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশের লক্ষ্য নিয়ে সোমবার আবারও ‘স্টারশিপ’ রকেট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে স্পেসএক্স। চাঁদ ও মঙ্গলে ভবিষ্যৎ অভিযানের জন্য তৈরি বিশাল এই রকেটের ১৪তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়নকে উন্নয়ন কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
টেক্সাস থেকে স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ১০ ঘণ্টার এই পরীক্ষায় সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হলে স্টারশিপের ওপরের অংশ পৃথিবীর প্রায় ২৭৫ কিলোমিটার উচ্চতার কক্ষপথে পৌঁছাবে এবং ২৬টি স্টারলিংক উপগ্রহ স্থাপনের চেষ্টা করবে। এ জন্য রকেটটিকে ঘণ্টায় প্রায় ২৮ হাজার কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, মহাকাশযানটি পৃথিবীকে ছয়বার প্রদক্ষিণ করার পর প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের মাধ্যমে পরীক্ষা শেষ করবে। অন্যদিকে ‘সুপার হেভি’ নামের প্রথম-পর্যায়ের বুস্টারটি মেক্সিকো উপসাগরে গিয়ে পড়বে। এবার সেটিকে যান্ত্রিক বাহু দিয়ে ধরে ফেলার পরিকল্পনা নেই।
স্পেসএক্সের আগের কয়েকটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন সমস্যায় শেষ হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় কক্ষপথে পৌঁছানো এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করাকেও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজির বিশ্লেষক ক্যাথলিন কার্লির মতে, কক্ষপথে পৌঁছানোর জন্য দ্বিতীয়বার ইঞ্জিন চালু করা পরীক্ষাটির সবচেয়ে কঠিন ধাপগুলোর একটি। এতে বেশি শক্তি ও জটিল হিসাব-নিকাশ প্রয়োজন হবে।
স্পেসএক্স ভবিষ্যতে স্টারশিপকে পুরোপুরি পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে চায়। তবে বাণিজ্যিক ফ্লাইট এবং চাঁদ-মঙ্গল অভিযানের জন্য রকেটটিকে প্রস্তুত করতে এখনও বেশ কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
এই পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সফল হোক বা না হোক, একই সপ্তাহে স্পেসএক্স আরও তিনটি রকেট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে একটি মিশনে নভোচারীদের আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাঠানোর কথা রয়েছে।

মন্তব্য করুন