ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৮০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। রাজধানী কিয়েভ থেকে শুরু করে দিনিপ্রো, জাপোরিঝঝিয়া ও অন্যান্য এলাকায় এই হামলায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কিয়েভে ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেসের একটি ভবনে ড্রোন আঘাত হানার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীতে মোট ২৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সোমবার দেশটিতে প্রায় ১২০টি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৯০টি ছিল নতুন ধরনের জেটচালিত ড্রোন। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব দ্রুতগতির ড্রোন মোকাবিলায় এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলে জানান তিনি।
দিনিপ্রো শহরেও হামলায় একটি ব্যবসায়িক কেন্দ্রে তিনজন নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছেন। ব্যস্ত সময়ে ওই এলাকায় শত শত মানুষ অবস্থান করছিলেন। সাইনেলনিকোভোতে একটি লজিস্টিক কার্যালয়ে হামলায় আরও একজন নিহত হন। জাপোরিঝঝিয়ায় অবকাঠামোয় হামলায় ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জরুরি সেবা বিভাগ।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া গুদাম, বন্দর ও জ্বালানি স্থাপনার পাশাপাশি ডেটা সেন্টার ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোকেও লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে।
এদিকে জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রাশিয়া নতুন করে সেনা নিয়োগ বাড়াচ্ছে এবং উত্তর কোরিয়ার আরও প্রায় ১০ হাজার সেনাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন সেনা সমাবেশের খবরকে ‘সম্পূর্ণ অর্থহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের তেল স্থাপনা ও প্রতিরক্ষা কারখানায় হামলা চালিয়েছে বলে জেলেনস্কি জানিয়েছেন। দুই দেশই বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

মন্তব্য করুন