২০৪০ সালের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছে স্পেন, পর্তুগাল ও লুক্সেমবার্গ। মঙ্গলবার রয়টার্সের হাতে আসা ২৫ সেপ্টেম্বরের একটি চিঠিতে দেশ তিনটি এই আহ্বান জানায়। তবে এ প্রস্তাবকে ঘিরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। কয়েকটি দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তিকেও ‘পরিচ্ছন্ন জ্বালানি’ লক্ষ্যমাত্রার আওতায় রাখতে চায়।
ইইউর বর্তমান লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট জ্বালানি ব্যবহারে নবায়নযোগ্য উৎসের অংশ ৪২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার কথা। তবে ২০৪০ সালের জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়নি। ২০৩০-পরবর্তী সময়ের জ্বালানি কৌশল নির্ধারণে নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ করছে ইউরোপীয় কমিশন।
স্পেনের জ্বালানিমন্ত্রী সারা আগেসেন মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, “বিনিয়োগকারীদের কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছানো প্রয়োজন।” তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদি একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা তৈরি হবে।
ইইউর জ্বালানি বিষয়ক কমিশনার ড্যান জর্গেনসেনের কাছে পাঠানো চিঠিতে স্পেন, পর্তুগাল ও লুক্সেমবার্গ বলেছে, “নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক পরীক্ষিত ও প্রতিযোগিতামূলক সমাধান, যা ইইউ-তে বড় পরিসরে এবং সময়মতো বাস্তবায়ন করা সম্ভব।”
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, “জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অত্যধিক নির্ভরতা আমাদের অর্থনীতি ও নাগরিকদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেলে। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার পরিণতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমাদের উচিত জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।”
তবে এই প্রস্তাবের বিপরীতে কয়েকটি ইইউ দেশ নবায়নযোগ্য ও পারমাণবিক শক্তি—দুটিকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি বিস্তৃত ‘পরিচ্ছন্ন জ্বালানি’ লক্ষ্যমাত্রা চায়। ফ্রান্স ও সুইডেনের মতো দেশগুলো গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে পারমাণবিক শক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
মঙ্গলবার ইইউর জ্বালানিমন্ত্রীদের বৈঠকে ফিনল্যান্ডের জলবায়ুমন্ত্রী সারি মুলতালা বলেন, “আমাদের অবশ্যই পারমাণবিক শক্তিকে সমাধানের অংশ হিসেবে দেখতে হবে।”
অন্যদিকে, অস্ট্রিয়া ও লুক্সেমবার্গের মতো কয়েকটি সদস্য দেশ নিরাপত্তা ও পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগের কারণে পারমাণবিক শক্তির বিরোধিতা করে আসছে। ফলে ২০৪০ সালের জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ইইউর মধ্যে নবায়নযোগ্য বনাম পারমাণবিক শক্তির ভূমিকা নিয়ে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে ইউরোপে জ্বালানি ও তেলের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্পেনসহ আরও পাঁচটি দেশ জ্বালানির উচ্চমূল্য থেকে কোম্পানিগুলোর অপ্রত্যাশিত অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে ইইউকে অনুরোধ করেছে বলে জানান আগেসেন।



মন্তব্য করুন