সিরিয়ায় ৬৯ লাখ শিশুর জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল। শিশুদের জন্য সহায়তা ব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং সারা দেশে প্রয়োজনীয় সেবা পুনরুদ্ধারে সিরীয় সরকার ও স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে জাতিসংঘের সংস্থাটি।

সরকারি সফরে সিরিয়ায় গিয়ে রাসেল বার্তা সংস্থা সানাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তাঁর সফরের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইউনিসেফের কার্যক্রম পর্যালোচনা, কারিগরি অংশীদারিত্ব জোরদার এবং শিশুদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো।

ইউনিসেফের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে স্কুল সংস্কার, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে পুষ্টি সহায়তা। দামেস্কের জোবার পানি পাম্পিং স্টেশন পুনরায় সচল করতেও সংস্থাটি কারিগরি সহায়তা দিয়েছে। এর ফলে রাজধানী ও আশপাশের এলাকার ১০ লাখের বেশি মানুষ আবার নিরাপদ খাবার পানির সুযোগ পেয়েছেন।

রাসেল বলেন, মানসম্মত শিক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন শিশুদের সুস্থতা, বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনার জন্য অপরিহার্য।

বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর নিজ এলাকায় ফিরে আসার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে, তারা সবাই ঘরে ফেরার প্রবল আকাঙ্ক্ষা জানিয়েছেন। তবে ফিরে আসা মানুষদের, বিশেষ করে শিশুদের, স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো বড় চ্যালেঞ্জ।

ইউনিসেফ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি বৃত্তিমূলক দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও তরুণদের ক্ষমতায়নেও কাজ করছে। রাসেল বলেন, সিরিয়ার পুনরুদ্ধারে শিশুদের ওপর বিনিয়োগ জরুরি এবং তাদের জন্য কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

তিনি সিরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইউনিসেফের অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী উল্লেখ করে বলেন, শিশুদের জন্য উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।