ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ এবং নিজেদের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জরুরি মজুত থেকে ডিজেল বাজারে ছাড়তে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ঘোষণার একদিন পরই ইউরোপীয় দেশগুলো বিপুল পরিমাণ মজুত ডিজেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইউরোপের দেশগুলোতে বিপুল পরিমাণ ডিজেল মজুত রয়েছে এবং সেসব মজুত থেকে জ্বালানি বাজারে ছাড়ার প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হবে।

তবে কোন দেশ কত পরিমাণ ডিজেল ছাড়বে কিংবা পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প।

এদিকে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ফ্রান্সের প্রস্তাব অনুযায়ী ইউরোপীয় দেশগুলো প্রায় ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সদস্য দেশগুলো আরও ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়তে পারে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০ দিনের মধ্যে ধাপে ধাপে ডিজেলের একটি অংশ বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দ্রুত জ্বালানি মজুত বাজারে ছাড়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের পরিপ্রেক্ষিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

শুক্রবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ জি৭ নেতাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন। ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, বৈঠকে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে জি৭ দেশগুলো ফ্রান্সের প্রস্তাব অনুযায়ী জ্বালানি ছাড়তে সম্মত হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে মজুত জ্বালানি বাজারে ছাড়ার আলোচনা প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল ফিউচারের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ৪৪৯১ ডলারে নেমে আসে। ইউরোপের বেঞ্চমার্ক ডিজেল ফিউচারের দামও প্রতি মেট্রিক টনে ১০০ ডলারের বেশি কমেছে।