স্বাস্থ্য ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার ভোরে গাজা শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন; নিহতদের মধ্যে চারজনই নারী। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে একজন খ্রিস্টান মা ও তাঁর মেয়েও রয়েছেন।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। হামলায় অ্যাপার্টমেন্ট ভবনটি ধ্বংস হয়ে যায় এবং সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী আহমেদ আল-দাহদুহ বলেন, “আমরা তখন ঘুমে ছিলাম। হঠাৎ করেই আমরা একটানা আঘাত ও প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই; শিশুরা চমকে জেগে ওঠে এবং চিৎকার করতে করতে এদিক-সেদিক দৌড়াতে শুরু করে।” তিনি রয়টার্সকে আরও বলেন, “আমরা বাইরে বেরিয়ে দেখি যে আমাদের প্রতিবেশীর বাড়িতে আঘাত করা হয়েছে এবং সেখানে নারী, পুরুষ ও শিশুদের ছিন্নভিন্ন মরদেহ পড়ে আছে। আমরা তাদের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বের করে আনার চেষ্টা করি; তাদের শরীরগুলো সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল।”

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তাতে এই অঞ্চলটির পুনর্গঠনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে যে চুক্তি হয়েছিল—যার শর্তগুলোর মধ্যে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলের সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়গুলোও ছিল—তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে খুব একটা অগ্রগতি হয়নি।

দাহদুহ বলেন, “আমরা মুসলিম আর এরা আমাদের খ্রিস্টান ভাই-বোন; কোনো কিছুর সাথেই তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তারা অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির মানুষ এবং সবাই তাদের ভালোবাসে। অথচ এখন আমরা তাদের—এক মা ও তাঁর মেয়ের—মরদেহ উদ্ধার করলাম।”

ইসরায়েলের দাবি, হামাস যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে পুনরায় অস্ত্র সংগ্রহ ও হামলা চালাচ্ছে; তাই সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েল ওই গোষ্ঠীর ওপর হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।
হামাস হামলা চালানো বা তাদের অস্ত্রভাণ্ডার পুনর্গঠনের চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং গাজা শান্তি চুক্তি নস্যাৎ করার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১,৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, একই সময়ে গাজায় জঙ্গিদের হামলায় তাদের চারজন সৈন্য নিহত হয়েছেন।