ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান নেই। নিষেধাজ্ঞা দিয়েও এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। রোববার বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের এক অনুষ্ঠানে আরাকচি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আবার সামরিক অভিযান চালানো হলে আগের চেয়েও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের সমাধান সম্ভব।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয় এখন Strait of Hormuz বা হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন পথগুলোর একটি এই জলপথ।রোববার যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, হরমুজ এলাকায় একটি ট্যাঙ্কার অজ্ঞাত কোনো বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ইঞ্জিন
রুম ক্ষতিগ্রস্ত হলেও জাহাজের কর্মীরা নিরাপদ আছেন। পরিবেশগত ক্ষতিরও কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়ার জন্য ইরান সাতটি শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছাড়, তেল খাতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ বন্ধ করা।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যৎ আলোচনা ও প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ—দুটির পথই খোলা রেখেছেন।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রস্তাবের বিষয়ে জবাব দিয়েছে। তেহরান এখন সেই জবাব পর্যালোচনা করছে।
সংঘাতের প্রভাবে ইরানের পেট্রোল স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই দেশটির তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ পদত্যাগ করেছেন। ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির প্রধান নির্বাহী হামিদ বোভার্ডকে ভারপ্রাপ্ত তেলমন্ত্রী করা হয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

মন্তব্য করুন