যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম হলেও সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি অবশ্য বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কানাডা আক্রমণের ঝুঁকি খুবই কম। তবে দুই দেশের সম্পর্কের পরিবর্তিত বাস্তবতায় সব ধরনের পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়াকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেখছে অটোয়া।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার বক্তব্য এবং তার শুল্কনীতির কারণে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে মডেল তৈরি করছে কানাডা।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ন্যাটোর দুই সদস্য কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের সম্ভাবনা প্রায় কল্পনাতীত। দুই দেশ ন্যাটোর পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার আকাশ ও মহাকাশ প্রতিরক্ষায় নোরাডের অধীনে যৌথভাবে কাজ করে এবং নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করে।
তবে কানাডার সাবেক সামরিক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ক্রিস্টোফার কোটসের মতে, সম্ভাব্য সংঘাত সামরিক হামলা দিয়ে শুরু নাও হতে পারে। সাইবার হামলার মতো অপেক্ষাকৃত গোপন পদ্ধতিও ব্যবহার করা হতে পারে।
কানাডার ইতিহাসেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের নজির রয়েছে। ১৭৭৫ সালে মার্কিন বাহিনী মন্ট্রিয়ল দখল করেছিল এবং ১৮১২ সালের যুদ্ধেও তৎকালীন কানাডীয় ভূখণ্ডে একাধিক হামলা চালানো হয়। এমনকি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরও সম্ভাব্য মার্কিন হামলা মোকাবিলায় কানাডা গোপনে সীমান্তবর্তী মার্কিন শহরগুলোর তথ্য সংগ্রহ করেছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কানাডার তৈরি একটি সামরিক মডেল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে এক সপ্তাহের মধ্যেই কানাডার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এরপর কানাডীয় বাহিনী গেরিলা কৌশলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে এবং ফ্রান্স ও ব্রিটেনসহ মিত্রদের সহায়তা চাইতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা অনেক বেশি হলেও কানাডায় দীর্ঘমেয়াদি অভিযান চালানো সহজ হবে না। এমনকি মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যেও এ ধরনের যুদ্ধের আদেশ নিয়ে আপত্তি তৈরি হতে পারে।
এ অবস্থায় সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে কানাডা। প্রতিরক্ষা প্রধান দেশটির সেনাবাহিনীর আকার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অটোয়ার এই প্রস্তুতি সরাসরি যুদ্ধের পূর্বাভাস নয়; বরং পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন