লোহিত সাগর, নীল নদের পানি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে মিসর-ইরিত্রিয়া-সুদান-সোমালিয়ার আলোচনা

ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই মিসরের নিউ আলামেইনে বৈঠকে বসেছেন মিসর, ইরিত্রিয়া, সুদান ও সোমালিয়ার নেতারা। লোহিত সাগরের নিরাপত্তা, নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা, নীল নদের পানি ও আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা।

আফ্রিকান ইউনিয়নের (AU) মধ্য-বার্ষিক সমন্বয় সভার ফাঁকে অনুষ্ঠিত বৈঠকটিকে কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে জোট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন মিসরের সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন হারাইদি। আরব নিউজকে তিনি বলেন, এটি আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিবিহীন একটি পরামর্শমূলক বৈঠক।

সম্প্রতি ইথিওপিয়া ইরিত্রিয়ার ১০ কূটনীতিককে বহিষ্কার এবং আসমারায় নিজেদের দূতাবাস বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পর দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। ইথিওপিয়ার অভিযোগ, ইরিত্রিয়া সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন করছে। তবে ইরিত্রিয়া এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে অভিযোগটির পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণের বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে চার দেশ লোহিত সাগরে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা এবং উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানের ওপর জোর দেয়। নীল নদসহ আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি ব্যবহারে আন্তর্জাতিক আইন, পারস্পরিক পরামর্শ এবং ‘কোনো ক্ষতি না করা’র নীতির কথাও বলা হয়।

সুদানের ঐক্য ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশটির নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পুনরায় শুরুর আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সোমালিয়ার সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রচেষ্টা এবং দেশটির নিরাপত্তা জোরদারে আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

মিসরের সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাখা আহমেদ হাসান ইথিওপিয়ার মিসরের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, কায়রো অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার পক্ষে।