ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সম্ভাব্য হুমকির আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে মার্কিন বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, সম্ভাব্য হুমকি থাকলে সেখানে বিমান রেখে ঝুঁকি নেওয়ার কোনো কারণ নেই। বিমানগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার খরচও তুলনামূলক কম হওয়ায় সতর্কতার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ইউরোপে মার্কিন বোমারু বিমান মোতায়েনের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ফেয়ারফোর্ডে থাকা এসব বিমান সম্প্রতি ইরানে মার্কিন হামলায় ব্যবহার করা হয়েছিল। এর মধ্যেই গত সপ্তাহে ঘাঁটির কাছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস ঘাঁটিটিকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছিল।

সম্ভাব্য হুমকির সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের ইরানের কোনো যোগসূত্র আছে কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তাদের সঙ্গে ইরানের যোগ থাকার বিষয়ে তিনি নিশ্চিত।

এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইরান অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সন্দেহভাজন ইরানি চক্রান্তের সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই। তার দাবি, পেন্টাগন নিয়মিতভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী সামরিক সম্পদ বিভিন্ন স্থানে পুনর্বণ্টন করে থাকে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে তারা আস্থাশীল।

এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেছেন, কোনো চক্রান্তের প্রমাণ পাওয়া গেলে এর পেছনে ইরানের সমর্থন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ইরান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে বলেন, বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের দায় ইরানের ওপর চাপানো হচ্ছে।