অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণশীল বিরোধী দল মঙ্গলবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, তারা ক্ষমতায় এলে দেশের ইতিহাসে অভিবাসন খাতে “সবচেয়ে বড় ধরনের কাটছাঁট” বা হ্রাস বাস্তবায়ন করবে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের বেশিরভাগ সময় অস্ট্রেলিয়া শাসন করেছে লিবারেল-ন্যাশনাল জোট। তবে অভিবাসন কঠোরভাবে কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া উগ্র-ডানপন্থী দল ‘ওয়ান নেশন’-এর উত্থানের চাপে জনমত জরিপে তারা এখন তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে।
গত মাসে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, মার্চ পর্যন্ত এক বছরে নিট অভিবাসন সংখ্যা (অস্ট্রেলিয়ায় আসা ও এখান থেকে চলে যাওয়া মানুষের সংখ্যার পার্থক্য) ছিল ২ লাখ ৯২ হাজার ১০০।
মঙ্গলবার লিবারেল পার্টির নেতা অ্যাঙ্গাস টেলর বলেন, তাদের সরকার ক্ষমতায় এলে প্রথম দুই বছরের জন্য এই সংখ্যা কমিয়ে ১ লাখে নামিয়ে আনা হবে।
সাংবাদিকদের টেলর বলেন, “অস্ট্রেলিয়া একটি বাড়ি হওয়া উচিত, কোনো হোটেল নয়।” তিনি আরও বলেন যে, দেশটির এখন কিছুটা “স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ” বা “ব্রিদিং স্পেস” প্রয়োজন।
তিনি জানান, ২০২৮ সালে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী নির্বাচনে জয়ী হলে তাদের জোট চার বছরের মধ্যে ইস্যুকৃত অস্থায়ী ভিসার সংখ্যা ৬ লাখ ৫০ হাজার কমিয়ে আনবে।
ন্যাশনাল পার্টির নেতা ম্যাট ক্যানাভান বলেন, “আমরা একটি দেশ, কোনো ক্যাম্পগ্রাউন্ড বা তাঁবু ফেলার জায়গা নই।” তিনি আরও বলেন যে, এই পরিকল্পনাগুলো “আমাদের দেশকে পুনরুদ্ধার করতে” সহায়তা করবে।
অস্ট্রেলিয়ার ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিও অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
গত মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক অভিবাসন কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এর আওতায় ‘ভিসা হপিং’ (এক ভিসা থেকে অন্য ভিসায় পরিবর্তন) নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষার্থী ও ‘ওয়ার্কিং হলিডে মেকার’দের (যারা ছুটিতে এসে কাজ করেন) জন্য নিয়ম কঠোর করা এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা থেকে যাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, কয়েক দশক ধরে বিতর্কিত নেত্রী পলিন হ্যানসনের নেতৃত্বে থাকা প্রান্তিক দল ‘ওয়ান নেশন’ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় দলে পরিণত হয়েছে।
মঙ্গলবার হ্যানসন বলেন, “ওয়ান নেশনের কারণেই লেবার ও লিবারেল—উভয় দলকেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও অভিবাসন বিষয়ক বিতর্কে টেনে আনা হয়েছে।”
তিনি ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ বলেন, “নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলীয়রা লিবারেল বা লেবার—কোনো দলের ওপরই আস্থা রাখতে পারে না।”


মন্তব্য করুন