ফ্যাশন শোর মূল আকর্ষণ রানওয়েতে হলেও এর অর্থনৈতিক প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে শোর বাইরের কর্মকাণ্ডে। ব্যবসায়িক চুক্তি, নতুন বাজার, কর্মসংস্থান ও ডিজাইনারদের বিক্রি বাড়ার মতো ফলাফলের মধ্য দিয়েই একটি ফ্যাশন সপ্তাহের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য পরিমাপ করা উচিত বলে জানিয়েছেন ব্রিকস+ ফ্যাশন সামিটের বক্তারা।
মস্কোর জারিদিয়ে কনসার্ট হলে ‘আধুনিক অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ফ্যাশন সপ্তাহ’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় জর্ডান, মরক্কো, দক্ষিণ সুদান, মালয়েশিয়া, প্যারাগুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও তুরস্কের ফ্যাশন খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাঁদের মতে, ফ্যাশন সপ্তাহকে কয়েক দিনের আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ডিজাইনার, ক্রেতা, নির্মাতা, বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক বাজারের মধ্যে বছরজুড়ে যোগাযোগের প্ল্যাটফর্মে পরিণত করা প্রয়োজন।
আসুনসিয়ন ফ্যাশন উইকের গ্যাব্রিয়েলা তোমে বলেন, শো শেষ হওয়ার পর পরিচিতি, ব্যবসায়িক বৈঠক ও ফলো-আপের মাধ্যমে তৈরি সম্পর্কগুলোই একটি ফ্যাশন সপ্তাহকে স্থায়ী অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত করে।
ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাশন চেম্বার মালয়েশিয়ার জে ইসহাক বলেন, রানওয়ে আগ্রহ তৈরি করলেও এর মাধ্যমে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক সংযোগই অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টি করে। তিনি ফোরাম, রানওয়ে ও প্যাভিলিয়নের সমন্বিত আয়োজনের মাধ্যমে ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।
জর্ডান ফ্যাশন উইকের শিরিন রিফাই বলেন, ফ্যাশন উইকের সাফল্য রানওয়ের আয়োজনের পাশাপাশি পরবর্তী কার্যক্রম দিয়ে বিচার করা উচিত। তাঁর দাবি, জর্ডান ফ্যাশন উইকের প্রথম আসরে যুক্ত ৯০ জনের বেশি স্থানীয় ডিজাইনারের বিক্রি ৬৮ শতাংশ বেড়েছিল। পাশাপাশি মডেল, আলোকচিত্রী, হোটেল ও রেস্তোরাঁসহ সংশ্লিষ্ট খাতেও কাজের সুযোগ তৈরি হয়।
মরক্কো ফ্যাশন উইকের হিন্দ জৌদার বলেন, ফ্যাশন প্ল্যাটফর্ম ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প সংরক্ষণের পাশাপাশি এসব পণ্যের নতুন বাজার তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। দক্ষিণ সুদানের ডসন ডেং উৎপাদন সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের প্রয়োজনীয়তা জানান।
সোয়েটো ফ্যাশন উইকের স্টিফেন মেনজিনি বলেন, ফ্যাশন খাতের অগ্রগতি সবসময় বড় সংখ্যায় ধরা পড়ে না। কোনো ডিজাইনারের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো বা ব্যবসার জন্য নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলাও অর্থনৈতিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে।
বক্তারা বলেন, ডিজিটাল শোরুম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভার্চুয়াল বৈঠক আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ বাড়িয়েছে। তবে দর্শকসংখ্যার পাশাপাশি ক্রেতার সঙ্গে বৈঠক, অর্ডার, চুক্তি, পুনরায় বিক্রি, নতুন বাজার ও কর্মসংস্থানের মতো ফলাফল দিয়েই ফ্যাশন সপ্তাহের প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করা উচিত।

মন্তব্য করুন