মধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতিকে বড় ধরনের দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো। তবে এখন পর্যন্ত কোনো এলাকায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫৬ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী পানামা সিটি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে হেরেরা প্রদেশের পিতালেজো আরিবা এলাকায়। ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১২ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি হওয়ায় কম্পন ছিল তীব্র। প্রায় এক মিনিট ধরে চলে কম্পন।

প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৮ দশমিক শূন্য বলে ধারণা করা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৭ দশমিক ৭ নির্ধারণ করা হয়। মূল ভূমিকম্পের পর দেশটিতে ৮০টির বেশি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে একটির মাত্রা ছিল ৬-এর বেশি।

ভূমিকম্পে রাজধানী পানামা সিটির বহুতল ভবনগুলো থেকে আতঙ্কিত মানুষ দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে উঁচু ভবনের ছাদের সুইমিং পুল থেকে পানি নিচে পড়ে যেতে দেখা যায়। পানামা খালের ওপর একটি সেতুও তীব্রভাবে কাঁপতে দেখা গেছে।

প্রেসিডেন্ট মুলিনো জানান, রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফার্নান্দো বয়েডের ভাষ্য অনুযায়ী, হেরেরা, কোকলে ও লস সান্তোস প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় লস সান্তোসের টোনোসি শহরে স্থলপথে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সেখানে আকাশপথে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।

ভূমিকম্পের পর পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল পানামা সিটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও। তবে পানামা খাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে খালে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়নি।

এদিকে প্রতিবেশী কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও গুয়াতেমালা পানামাকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।