রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ার মোড়ে পদচারী সেতু থাকা সত্ত্বেও চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন পথচারীরা। সময় বাঁচানো, সেতুর সিঁড়ি ভাঙার কষ্ট ও তাড়াহুড়াকে কারণ হিসেবে দেখাচ্ছেন অনেকে। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা, ভোগান্তিতে পড়ছেন যানবাহনের চালকরাও।

গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চার দফায় মোট দুই ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, পদচারী সেতু বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার না করে মূল সড়ক পার হয়েছেন ১ হাজার ৮৮৬ জন। গড়ে প্রতি মিনিটে প্রায় ১৬ জন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত আধা ঘণ্টায় পার হন ৬৪১ জন, অর্থাৎ প্রতি মিনিটে ২১ জনের বেশি।

এক পথচারী জানান, পদচারী সেতু দিয়ে যেতে অনেক ঘুরতে হয়, তাই ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পার হয়েছেন। আরেক পথচারী নাজমুস সাকিবের ভাষ্য, রাস্তার এপাশ থেকে ওপাশে যেতে ২০ মিনিট ঘুরে সেতু ব্যবহার করা তার কাছে সময়সাপেক্ষ। তবে পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সেতু দিয়ে পার হতে সাড়ে তিন মিনিটের মতো লাগলেও সরাসরি রাস্তা পার হতে সময় লাগে প্রায় ৩০ সেকেন্ড। সেতুতে চলন্ত সিঁড়ি না থাকায় বয়স্কদেরও উঠতে কষ্ট হয়।

তবে সবাই নিয়ম ভাঙছেন না। গত সোমবার ট্রাফিক সংকেতের সময় জেব্রা ক্রসিং দিয়ে আধা ঘণ্টায় অন্তত ৩৫০ থেকে ৪০০ জনকে পার হতে দেখা গেছে।

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী, পদচারী সেতু বা জেব্রা ক্রসিংয়ের সুবিধা থাকলে তা ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। অমান্য করলে এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে এ মোড়ে আইনটির কার্যকর প্রয়োগ নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট বুলবুল হোসেন বলেন, জনসচেতনতা ছাড়া এ সমস্যা সমাধান কঠিন। মেট্রোরেলের বিপরীত পাশে আরেকটি পদচারী সেতু নির্মাণ করা হলে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার কমতে পারে।

অন্যদিকে বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ ‘অল রেড সিগন্যাল’ ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন। এ ব্যবস্থায় প্রতি ১০ মিনিট পরপর ৩০ সেকেন্ড সব দিকের যান চলাচল বন্ধ রেখে পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। তাঁর মতে, কারওয়ান বাজারের মতো ব্যস্ত মোড়ে এ উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে।