ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সৌদি আরবের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, বিপুল সামরিক ব্যয় সত্ত্বেও সৌদি বাহিনী কেন সব হামলা ঠেকাতে পারছে না?

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হুতিদের সামরিক সক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের বিশাল ভূখণ্ডের আকাশসীমা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা যে কতটা কঠিন, তা-ও সামনে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার সৌদি রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়েও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব হামলায় হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

সৌদি আরব সামরিক খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করে এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে পারলেও প্রতিটি হামলা ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না।

অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিশ্লেষক থমাস জুনোর মতে, সৌদি আরবের বিশাল ভৌগোলিক আয়তনের কারণে পুরো আকাশসীমা সব সময় সুরক্ষিত রাখা প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত কঠিন। ফলে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী হলেও কিছু হামলা প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের প্রযুক্তিগত সহায়তা, পরামর্শ ও অর্থায়ন হুতিদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। ফলে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করা আগের তুলনায় জটিল হয়ে উঠেছে।

লন্ডনের চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ফারেয়া আল-মুসলিমি বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে হুতিদের সামরিক শক্তিকে অবমূল্যায়ন করেছে। তাঁর মতে, নিজেদের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা অনেক বাড়িয়েছে গোষ্ঠীটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সৌদি আরবের সামরিক সমর্থন এবং হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। হুতিরা সৌদি স্থাপনাগুলোতে হামলাকে নিজেদের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতার পাল্টা জবাব হিসেবে তুলে ধরছে।

এদিকে লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মানদেব প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্যও উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

হুতিদের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে আগাম বিমান হামলা চালানোও সহজ নয়। অতীতের সামরিক অভিযানগুলো দেখিয়েছে, তাদের ঘাঁটি ও অস্ত্রের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা কঠিন।

অন্যদিকে সৌদি আরবের পক্ষেও প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে আটকে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈরিতা এবং ইয়েমেনের চলমান সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব সৌদি আরবের নিরাপত্তার গণ্ডি ছাড়িয়ে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।