ছবি: -সংগৃহীত
বিশ্ব অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণে অভ্যস্ত অর্থনীতিবিদরা এবার নজর দিয়েছেন ফুটবল বিশ্বকাপের দিকে। তাদের এক বৈশ্বিক জরিপে উঠে এসেছে চমকপ্রদ পূর্বাভাস—আসন্ন বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ফ্রান্স। অন্যদিকে, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য সবচেয়ে বড় হতাশার কারণ হিসেবে দেখছেন তারা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স পরিচালিত এ জরিপে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬০ জন অর্থনীতিবিদ অংশ নেন। ১১ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত পরিচালিত জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৩৫ শতাংশ ফ্রান্সকে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ৩১ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে স্পেন।
আগামী বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ৪৮টি দল অংশ নেবে এবং অনুষ্ঠিত হবে মোট ১০৪টি ম্যাচ। তিন দেশের যৌথ উদ্যোগে এটিই হবে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজন।
জরিপ অনুযায়ী, ফ্রান্স ও স্পেনের পর সম্ভাব্য শিরোপাজয়ীদের তালিকায় রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এরপর যথাক্রমে অবস্থান করছে পর্তুগাল ও ইংল্যান্ড।
ফ্রান্স শিরোপা জিততে পারলে দেশটির প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম ইতিহাসের পাতায় নতুন কীর্তি গড়বেন। ১৯৩৮ সালে ইতালির কিংবদন্তি কোচ ভিট্টোরিও পোজ্জোর পর তিনিই হবেন দ্বিতীয় কোচ, যিনি দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করবেন।
লন্ডনভিত্তিক আরবিসির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ক্যাথাল কেনেডি মনে করেন, ২০২২ সালের ফাইনালে আক্ষেপ নিয়ে শেষ করা ফ্রান্সের সামনে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে। তার মতে, ফাইনাল খেলা দলের অনেক তারকা এখন ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান ফুটবলারদের উত্থান দলটিকে আরও শক্তিশালী করেছে। এর সঙ্গে কিলিয়ান এমবাপ্পের উপস্থিতি ফ্রান্সের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
জরিপে ব্যক্তিগত পুরস্কারের ক্ষেত্রেও এমবাপ্পেকেই সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হয়েছে। সেরা খেলোয়াড়ের ‘গোল্ডেন বল’ এবং সর্বোচ্চ গোলদাতার ‘গোল্ডেন বুট’—দুই পুরস্কারের সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে তার নামই সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়েছে।
তবে এমবাপ্পের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়ে ক্যারিয়ারসেরা ৬১ গোল করেছেন তিনি এবং জিতেছেন ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু। জরিপে এমবাপ্পের পরই অবস্থান তার।