ছবি: -সংগৃহীত
বিশ্বকাপে ইরাকের যোগ্যতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা তারকা স্ট্রাইকার আইমান হুসেইন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। দেশটিতে প্রবেশের পর শিকাগোর ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে প্রায় সাত ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরাকের এক ক্রীড়া কর্মকর্তা।
শনিবার ভোরে জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান হুসেইন। দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও দলের আলোকচিত্রী তালাল সালাহকে দেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইরাকি অলিম্পিক কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং জাতীয় দলের ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তা।
এ ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি ইরাকি ফুটবল ফেডারেশন। আইমান হুসেইনও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগও গণমাধ্যমের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি। তবে ঘটনাটি ইরাকের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, টুর্নামেন্ট শুরুর কয়েক দিন আগে ভোরবেলায় বিমানবন্দরে জাতীয় দলকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন বহু সমর্থক। তারা জাতীয় পতাকা হাতে খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের সঙ্গে ছবি তোলার চেষ্টা করেন।
ইরাকি ওই কর্মকর্তার দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় আইমান হুসেইনের মোবাইল ফোনও পরীক্ষা করা হয়। তিনি আরও জানান, দলের আলোকচিত্রী তালাল সালাহকে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিমানবন্দরে আটকে রাখা হয়েছিল। তার মোবাইল ফোনও তল্লাশি করা হয়। পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
চার দশক আগে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর এবার আবারও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফিরছে ইরাক। গ্রুপ ‘আই’-তে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে ফ্রান্স, সেনেগাল ও নরওয়ে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ঘিরে এমন ঘটনা ইরাকি ফুটবল অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।