সোমবার (২৬ অক্টোবর) মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা—মওসুসের পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া জনস্বার্থে এই রিট দায়ের করেন।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর প্রাকৃতিক গঠন, নদীতীরের স্থিতিশীলতা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে পদ্মা সেতু ও সংশ্লিষ্ট জাতীয় অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
রিটে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে আইনগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশনা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ তদন্ত, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদী রক্ষায় কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
আবেদনে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং নদীভাঙন প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নদীতীরের স্থিতিশীলতা নষ্ট হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বসতভিটা, কৃষিজমি ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
পদ্মা নদী বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হলে এর প্রভাব পড়তে পারে নদীতীরবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর।
মওসুসের মতে, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, পরিবেশগত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা পালন করা জরুরি।
জনস্বার্থে দায়ের করা এই রিটের মাধ্যমে পদ্মা নদী রক্ষায় আইনসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি আদালতের বিবেচনায় আনা হয়েছে। তবে রিটের বিষয়ে আদালতের কোনো আদেশ দেওয়া হয়েছে কি না, তা প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি।

মন্তব্য করুন