ছবি: -সংগৃহীত
নিরাপত্তা খাতের সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের অভিবাসন ও স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মহাপরিচালক হেনরিক নিলসেনের নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা খাতের চলমান সংস্কার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করা, মানব পাচার প্রতিরোধ, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের হোম অ্যাফেয়ার্স কমিশনারের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফরসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘদিনের একটি নির্ভরযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তিনি ভবিষ্যতে দুই পক্ষের দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় ইইউ প্রতিনিধি দলের প্রধান হেনরিক নিলসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
বৈঠকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং একটি কার্যকর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় বর্তমান সরকার একটি চ্যালেঞ্জপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল। তবে গত কয়েক মাসে গৃহীত কার্যকর পদক্ষেপের ফলে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মানবাধিকার কমিশনকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করতে বিশেষজ্ঞ, অংশীজন এবং সংশ্লিষ্ট মহলের মতামত নেওয়া হচ্ছে। দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে আইনের শাসন আরও সুসংহত হয়।
বৈঠকে অভিবাসন ইস্যু বিশেষ গুরুত্ব পায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান এবং সব ধরনের অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।
তিনি জানান, ২০১৭ সালের ইইউ-বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস (এসওপি)-এর আওতায় অনিয়মিত অভিবাসীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং মানব পাচার প্রতিরোধে সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন ‘অ্যাসাইলাম অ্যান্ড রিটার্ন বর্ডার প্রসিডিউর’ নিয়েও আলোচনা হয়, যা ১২ জুন থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
হেনরিক নিলসেন নিয়মিত অভিবাসনকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতের সংস্কার কার্যক্রমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
আগামী অক্টোবর মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের হোম অ্যাফেয়ার্স কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনারের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফর নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ এ সফরকে স্বাগত জানিয়ে একে দুই পক্ষের সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে।
বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ইউরোপীয় কমিশনের আন্তর্জাতিক ও অভিবাসনবিষয়ক কর্মকর্তা আলেকজান্দ্রা ডোমানস্কা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইইউর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।