https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলা হলেও এখনো স্বাভাবিক হয়নি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি, সামুদ্রিক মাইনের আশঙ্কা এবং সম্ভাব্য টোল বা ফি—এই তিন কারণে জাহাজ মালিক ও ক্যাপ্টেনরা এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
জাহাজ চলাচলের তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও হরমুজ প্রণালি দিয়ে খুব অল্পসংখ্যক জাহাজ চলাচল করেছে। অথচ উপসাগরীয় অঞ্চলে শত শত তেলবাহী ও পণ্যবাহী জাহাজ এখনো অপেক্ষমাণ।
সংঘাতের সময় ইরান প্রণালিটি কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। অনুমতি ছাড়া প্রবেশের চেষ্টা করা জাহাজের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ওই অঞ্চলে নৌ অবরোধ জোরদার করে এবং কয়েকটি জাহাজের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়।
যদিও যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এসেছে, তবু জাহাজ মালিক, ক্যাপ্টেন এবং বিমা কোম্পানিগুলো এখনো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কেউই প্রথমে ঝুঁকি নিয়ে প্রণালিতে প্রবেশ করতে চাইছে না। অতীতের অভিজ্ঞতাও তাদের সতর্ক করে রেখেছে, কারণ আগে প্রণালি খোলার ঘোষণা দেওয়ার পরও হঠাৎ করে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
যুদ্ধ চলাকালে ইরান উপসাগরে সামুদ্রিক মাইন স্থাপনের হুমকি দিয়েছিল। এরপর থেকেই ওই এলাকায় সন্দেহজনক ভাসমান বস্তুর বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সতর্কতা জারি করে আসছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাহাজ চলাচল পুরোপুরি নিরাপদ করতে হলে প্রথমে মাইন অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে। তবে এই কাজ সহজ নয়। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্রণালি সম্পূর্ণ মাইনমুক্ত করতে এক মাস থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
মাইন অপসারণকারীদের ধীরগতিতে সমুদ্রতল জরিপ করে নিরাপদ নৌপথ তৈরি করতে হবে, যাতে একসঙ্গে একাধিক জাহাজ চলাচল করতে পারে।
ঐতিহাসিকভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বিনা খরচে হয়ে এলেও এবার নতুন বাস্তবতা তৈরি হতে পারে। ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে প্রণালি ব্যবহারের জন্য জাহাজগুলোর কাছ থেকে ‘সার্ভিস ফি’ নেওয়া হতে পারে।
যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে নতুন কোনো ফি চালু হলে তা জাহাজ চলাচলের গতি কমিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। পাশাপাশি ফি আদায়ের পদ্ধতি, পরিচালনার দায়িত্ব এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়া সম্ভব হলেও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আগের অবস্থায় ফিরতে আরও সময় লাগবে। নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, মাইন অপসারণ এবং নতুন নিয়মকানুন সম্পর্কে স্পষ্টতা না আসা পর্যন্ত অধিকাংশ জাহাজ মালিক অপেক্ষার কৌশলই অনুসরণ করবেন।
ফলে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এখনো কিছুটা সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।