https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে শান্তি চুক্তির আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তিনি সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাবেন। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং জি-৭ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার উচিত ইউক্রেনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো। যুদ্ধক্ষেত্রে দুই পক্ষের বহু তরুণ প্রাণ হারাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধে তিনি যা সম্ভব তা করবেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ইতোমধ্যে আটটি যুদ্ধের সমাধান করেছেন। তবে কোন কোন সংঘাতের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন, তা স্পষ্ট করেননি। এ দাবি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কও রয়েছে।
বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জেলেনস্কি জানান, আলোচনায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা এবং রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বলেন, ইউক্রেনের জন্য শান্তি এখন সবচেয়ে জরুরি।
জেলেনস্কির মতে, জি-৭ নেতারা ইউক্রেনকে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র, উৎপাদন লাইসেন্স, শীতকালীন সহায়তা প্যাকেজ এবং রাশিয়ার ওপর আরও চাপ বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বৈঠকের পরিবেশকে ইতিবাচক ও গঠনমূলক বলে বর্ণনা করেছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টও ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর এটাই উপযুক্ত সময়।
এদিকে জি-৭ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তি এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও আলোচনায় স্থান পায়। নেতারা প্রণালিটি দ্রুত উন্মুক্ত করা এবং জ্বালানি পরিবহনের বিকল্প পথ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো একটি কার্যকর ও টেকসই চুক্তি বাস্তবায়ন করা। তিনি জানান, নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ফ্রান্স ও তার মিত্ররা হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনা আরও সহজ হবে এবং চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।