https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ১৪ দফা নথি প্রকাশ করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নথির বিষয়বস্তু প্রকাশ করেন, যেখানে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নথিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এবং তাদের মিত্ররা অবিলম্বে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখাবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার অঙ্গীকার করেছে।
সমঝোতা অনুযায়ী আগামী ৬০ দিনের মধ্যে দুই দেশ চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে, প্রয়োজনে সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার শুরু করবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে তা সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাবে।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, ইরান বিনা মাশুলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে কিছু এলাকায় মাইন অপসারণের উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমানসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে।
চুক্তিতে ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি পরিকল্পনা তৈরির কথাও উল্লেখ রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও ছাড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
নথি অনুযায়ী, চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। এর মধ্যে জাতিসংঘের প্রস্তাব ও একতরফা নিষেধাজ্ঞাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ বিভিন্ন পারমাণবিক ইস্যুতে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে আলোচনায় সম্মত হয়েছে।
চুক্তি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সময়ে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থান বজায় রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না বা অতিরিক্ত সামরিক বাহিনী মোতায়েন করবে না।
এছাড়া সমঝোতা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও পেট্রোলিয়াম রপ্তানিতে ছাড় দেবে এবং ব্যাংকিং, বিমা ও পরিবহনসহ সংশ্লিষ্ট খাতে কিছু সুবিধা নিশ্চিত করবে। ইরানের জব্দ থাকা অর্থ ও সম্পদ ব্যবহারের সুযোগও পর্যায়ক্রমে উন্মুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
চুক্তির বাস্তবায়ন তদারকির জন্য একটি নির্বাহী কাঠামো গঠনের বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। একই সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষ এই সমঝোতার মূল ধারাগুলো বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।