https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
জুলাই আন্দোলন ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আজ রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একমাত্র আসামি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মামলার রায় মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
প্রসিকিউশন জানিয়েছে, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে রায় ঘোষণার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
এর আগে গত ২২ জুন শুনানি শেষে ৩০ জুন রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্রপক্ষের নেতৃত্ব দেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।
হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকারকে সহায়তা, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি, ১৪-দলীয় জোটের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখা এবং কুষ্টিয়ায় আন্দোলন দমনে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
প্রসিকিউশনের দাবি, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই একটি বিদেশি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি দেন ইনু।
এ ছাড়া ১৯ জুলাই গণভবনে অনুষ্ঠিত ১৪-দলীয় জোটের বৈঠকে আন্দোলন দমনে কঠোর ব্যবস্থা, সেনা মোতায়েন ও কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি নির্দেশনা, প্ররোচনা ও সহায়তা দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ কুষ্টিয়াকে ঘিরে। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০ জুলাই কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন ইনু। এর পরবর্তী সময়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে গুলিতে ছয়জন নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত ও নির্যাতনের শিকার হন।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, আন্দোলন চলাকালে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার, হেলিকপ্টার থেকে গুলি, কারফিউ বহাল রাখা এবং আন্দোলন দমনে বিভিন্ন পদক্ষেপে সমর্থন ও সহায়তা দিয়েছেন।
গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর দাখিল করা ৩৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রের সঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৬৭৯ পৃষ্ঠার নথি, তিনটি অডিও এবং ছয়টি ভিডিও প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়।
আজকের রায়ের মধ্য দিয়ে এই বহুল আলোচিত মামলার প্রথম বিচারিক নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে।