https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও বাহিনীকে নিয়ে ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে এসব অপপ্রচার চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা দুর্বল করা এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
বুধবার (১ জুলাই) অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিযোগ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি একটি চক্র এবং বিগত সরকারের সুবিধাভোগী একটি অংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া তথ্য তৈরি করে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ, পেজ এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিষয়টি পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নজরে এসেছে।
সংগঠনটি জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পুলিশ বাহিনী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নতুন উদ্যমে কাজ করছে। জনসেবা, পেশাদারিত্ব ও কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রেক্ষাপটে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে পুলিশ সদস্যদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে দুর্নীতি, অপরাধ ও অনিয়ম দমনে কঠোর অবস্থানে থাকা এবং অতীতে বৈষম্যের শিকার সৎ, দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অপপ্রচারকারীরা গুজবনির্ভর পোস্ট তৈরি করে তা একযোগে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দ্রুত ভাইরাল করার চেষ্টা করছে।
আইন ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে অ্যাসোসিয়েশন দাবি করে, এ ধরনের অপপ্রচার শুধু ব্যক্তিগত সুনামহানির উদ্দেশ্যে নয়; বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা দুর্বল করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও জানানো হয়, এসব অপতৎপরতা প্রতিরোধে পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে আইন প্রয়োগে আরও কঠোর ও দৃঢ় ভূমিকা পালন করবেন।