উত্তাল বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির পর টানা তিন দিন ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন জেলে আল আমিন হাওলাদার (৪২)। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে তিনি জানিয়েছেন, চোখের সামনে দুই সহকর্মীর মরদেহ সাগরে ভেসে যেতে দেখেও বেঁচে থাকার আশা ছাড়েননি।

গত রোববার রাত ১০টার দিকে পায়রা সমুদ্রবন্দরের পূর্ব-দক্ষিণে গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়ে ১১ মাঝিমাল্লাবাহী একটি ট্রলার ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পর সবাই নিখোঁজ হন। সোমবার পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও আল আমিনসহ ছয়জনের কোনো খোঁজ ছিল না।

অবশেষে বুধবার সন্ধ্যায় ভোলার ঢালচর নদী এলাকায় ভেসে গেলে স্থানীয় জেলেরা তাকে উদ্ধার করেন। পরে চরফ্যাশন হয়ে বৃহস্পতিবার তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা হয়।

দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকার কারণে লবণাক্ত পানি পেটে ঢুকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আল আমিন। বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার চিকিৎসা চলছে।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় আল আমিন জানান, ঝড় শুরু হতেই মুহূর্তের মধ্যে ট্রলারটি উল্টে যায়। তিনি, ট্রলারের মালিক এমাদুল সিকদার, হারুন, আকাশ, রাকিব, শাকিল, নাজমুল ও বায়জীদ ট্রলারের বাইরে থাকায় বের হতে পারলেও কেবিনে থাকা তাঁর আত্মীয় ফোরকান হাওলাদার, ফোরকানের ছেলে সায়েম ও এবাদুল বের হতে পারেননি।

তিনি বলেন, একপর্যায়ে উত্তাল ঢেউয়ে তারা সবাই একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তিনি, হারুন ও আকাশ ডুবে যাওয়া ট্রলারের একটি অংশ এবং একটি ফিশিং বয়া ধরে ভেসে থাকেন।

আল আমিনের ভাষ্য, দুই দিন পর উল্টে থাকা ট্রলারের কেবিন থেকে ফোরকান ও এবাদুলের মরদেহ বের হয়ে সাগরে ভেসে যেতে দেখেন তারা। সেই দৃশ্য তাঁকে ভেঙে দিলেও বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যান।

তিনি আরও জানান, পরে হারুন ও আকাশের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একটি ছোট ফিশিং বয়া পেটের নিচে চেপে ধরে একাই সাগরে ভেসে থাকেন। ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও ক্লান্তিতে বারবার জ্ঞান হারানোর উপক্রম হলেও শেষ পর্যন্ত ঢেউয়ের স্রোতে ভেসে ভোলার ঢালচর এলাকায় পৌঁছে যান। সেখানে স্থানীয় জেলে দুলাল মাঝি ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে উদ্ধার করেন।