https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
কক্সবাজারের চকরিয়ায় সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন হত্যা মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং নয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে পাঁচজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার পর আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। পরে দণ্ডপ্রাপ্তদের কড়া নিরাপত্তায় কারাগারে পাঠানো হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম চৌধুরী জানান, দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আলামত পর্যালোচনার পর আদালত এ রায় দিয়েছেন। একই ঘটনায় দায়ের হওয়া অস্ত্র মামলায়ও কয়েকজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মামলার ১৮ আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত দণ্ডাদেশ দিয়েছেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
ঘটনার দুই দিন পর সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ ১৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনায় অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা হয়। পরে তদন্ত শেষে পুলিশ দুই মামলায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
অভিযোগপত্রে জালাল উদ্দিন ওরফে বাবুল, হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ, আনোয়ার হাকিম, জিয়াবুল করিম, ইসমাইল হোসেন, নুরুল আমিন, নাছির উদ্দিন, আব্দুল করিম, মোহাম্মদ সাদেক, আনোয়ারুল ইসলাম, মোরশেদ আলম, শাহ আলম, আবু হানিফ, এনামুল হক ওরফে তোতলা এনাম, মো. এনাম, কামাল ওরফে ভেন্ডি কামাল এবং মিনহাজ উদ্দিনের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
নিহত তানজিমের পরিবারের সদস্যরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
টাঙ্গাইলের বাসিন্দা লেফটেন্যান্ট তানজিম ২০২২ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে আর্মি সার্ভিস কোরে (এএসসি) কমিশন লাভ করেন।