https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
দীর্ঘ কয়েক মাসের আলোচনা শেষে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে অস্ত্র সমর্পণ ও গাজা উপত্যকা থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের শর্তে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে হামাস ও ইসরাইল। হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা শুক্রবার এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তাদের দাবি, চুক্তিতে যুদ্ধ বন্ধ, গাজার পুনর্গঠন, নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠন এবং আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অক্টোবর থেকে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনায় হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি ছিল সবচেয়ে বড় অচলাবস্থার একটি। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইলি বাহিনী দাবি করছে, তারা হামাসের যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেই অভিযান পরিচালনা করছে।
এএফপিকে দেওয়া বক্তব্যে হামাসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, অস্ত্রের বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলি সেনা ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের বিষয়েও সম্মতি হয়েছে। এখন মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ নিশ্চিত করবে যে, চুক্তির শর্তগুলো ইসরাইল যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে।
হামাসের আলোচনাকারী দলের সদস্য গাজি হামাদ বলেন, গাজার জনগণকে হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ ও বাস্তুচ্যুতির হাত থেকে রক্ষা করতেই সংগঠনটি জনগণের স্বার্থে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দিয়েছে। তবে নিরস্ত্রীকরণের পুরো প্রক্রিয়া ইসরাইলের তত্ত্বাবধানে নয়, বরং একটি জাতীয় কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামাসের অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়টি ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, গাজার প্রশাসন পরিচালনার জন্য জাতীয় কমিটি গঠন এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। চুক্তি অনুযায়ী, গাজায় অস্ত্রের তালিকা প্রস্তুত, সংরক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব থাকবে গাজা প্রশাসনের জন্য জাতীয় কমিটির (এনসিএজি) হাতে। অস্ত্র সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের একমাত্র অনুমোদিত কর্তৃপক্ষও হবে এই জাতীয় কমিটি।
তবে হামাস জানিয়েছে, ‘বোর্ড অব পিস’-এর অধীনে গঠিত জাতীয় কমিটি এখনো গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করেনি। ফলে চুক্তির বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তী ধাপগুলো নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
গাজি হামাদ জানান, প্রায় ছয় মাস ধরে চলা দীর্ঘ ও কঠিন আলোচনার পর এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে। চুক্তিতে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান, গাজায় জাতীয় কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু এবং প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এটি একটি সমন্বিত চুক্তি। এর প্রতিটি শর্ত পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এবং একটি বাস্তবায়ন ছাড়া অন্যটি কার্যকর হবে না। একই সঙ্গে গাজায় সক্রিয় অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকেও বিলুপ্ত করার বিষয়টি চুক্তির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে চুক্তির বাস্তবায়ন পদ্ধতি, সময়সূচি এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সব পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপে চুক্তি কার্যকর করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।