https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ছিল সম্পূর্ণ জনগণের আন্দোলন এবং জনগণ পরিবর্তন চেয়েছিল বলেই সেই আন্দোলন সফল হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের নয়, বরং দেশের সর্বস্তরের মানুষের।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত ‘গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর ধরে বিএনপিসহ গণতন্ত্রপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে ছিল এবং কখনো জনগণকে একা ফেলে যায়নি। এখন আন্দোলনের সময় পেরিয়ে দেশ পুনর্গঠনের সময় এসেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্র মোকাবিলা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা এখন শুধু দলীয় কর্মসূচি নয়, নির্বাচনে জনগণের সমর্থনের মাধ্যমে এটি দেশের মানুষের ৩১ দফায় পরিণত হয়েছে।
সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও প্রশাসনকে ভঙ্গুর অবস্থায় পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৭ বছরে বছরে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। তবু আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার কাজ করছে।
জ্বালানি সংকট নিরসনে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির আলোচনা শুরু হয়েছে এবং মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস-এর সঙ্গে এলএনজি আমদানির বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারে দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকা বাপেক্স-কে শক্তিশালী করতে দুটি নতুন রিগ কেনার সিদ্ধান্তের কথাও জানান।
কর্মসংস্থান বাড়াতে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা এবং বন্ধ থাকা প্রায় ৫০টি বিটিএমসি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাতে আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা, উপজেলা হাসপাতালে ডায়ালাইসিস ইউনিট চালু এবং স্টেন্ট, ডায়ালাইসিস ও চোখের লেন্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রীর দাম কমানোর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
শিক্ষা ব্যবস্থাকে ‘আনন্দের মাধ্যমে শিখন’ ধারণায় ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশু-কিশোরদের চাহিদা ও দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হবে।
মাদক থেকে তরুণদের দূরে রাখতে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২২ লাখ শিশুকে নিয়ে ফুটবল প্রতিযোগিতা এবং ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের জন্য নতুন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ শান্তি, উন্নত শিক্ষা, মানসম্মত চিকিৎসা, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং গণতান্ত্রিক অধিকার চায়। এসব প্রত্যাশা পূরণে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আহতদের চিকিৎসা এবং যাদের কর্মসংস্থানের প্রয়োজন তাদের পুনর্বাসনে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
অনুষ্ঠানের শেষে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের শান্তি, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।