https://timenewsbangla.com

ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->
ইয়েমেনের হাধরামাউত ও মারিব প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৩০ জন ইয়েমেনি সেনা নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ইয়েমেন সরকারের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার পরিচালিত এ হামলায় জরুরি বাহিনীর একটি ক্যাম্পসহ কয়েকটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। দেশটির গৃহযুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিকে অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হুথি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারী দাবি করেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে চালানো এ অভিযানে সরকারি বাহিনীর শত শত সদস্য হতাহত হয়েছে। তবে ইয়েমেনি সামরিক বাহিনী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও হতাহতের বিষয়ে হুথিদের দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
সামরিক সূত্র জানায়, মারিবের উত্তরে আল-জাওফ প্রদেশ থেকে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলার লক্ষ্য ছিল হাধরামাউতের আল-থিনিয়া ও আল-আব্দ এবং মারিবের আল-রুক এলাকার সামরিক ঘাঁটি।
চার বছর তুলনামূলক শান্ত থাকার পর ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আবারও সংঘাত তীব্র হয়েছে। হুথিরা সম্প্রতি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে এবং সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানো শুরু করেছে।
ইয়েমেনের বর্তমান সংঘাতের সূচনা ২০১৪ সালে, যখন হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে। এর পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হস্তক্ষেপ করলেও হুথিদের পুরোপুরি পরাস্ত করতে পারেনি।
সাম্প্রতিক সময়ে সানা বিমানবন্দরকে ঘিরে ইরান ও ইয়েমেন সরকারের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। গত জুলাইয়ে ইয়েমেন সরকার একটি ইরানি বিমানের অবতরণ ঠেকাতে সানা বিমানবন্দরে হামলার কথা জানায়। এর জবাবে হুথিরা সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যা সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রতিহত করার দাবি করে।
পরবর্তীতে হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা শুরু করলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। এর জেরে ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে হুথি অবস্থান লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।