https://timenewsbangla.com

ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->
দীর্ঘ ১৫ মাসেরও বেশি সময় যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। দেশে ফেরার পর থেকেই সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে তার গুলশানের বাসায় দেখা করতে যান বরেণ্য অভিনেত্রী সুচন্দা ও তার ছোট বোন চম্পা। দীর্ঘদিন পর প্রিয় সহকর্মীদের কাছে পেয়ে জমে ওঠে পুরোনো দিনের আড্ডা। একপর্যায়ে সুচন্দার অনুরোধে গানও শোনান ইলিয়াস কাঞ্চন।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে গুলশান-১-এর ১৩৬ নম্বর রোডে ইলিয়াস কাঞ্চনের বাসায় যান সুচন্দা ও চম্পা। তাদের সঙ্গে ছিলেন পরিচালক গাজী মাহবুবসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের আরও কয়েকজন।
তখন মাগরিবের নামাজ শেষে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। প্রায় রাত ৯টার দিকে ছেলে জয় তাকে শোবার ঘর থেকে বসার ঘরে নিয়ে আসেন। সেখানে সুচন্দা ও চম্পাকে দেখে আনন্দে চমকে ওঠেন তিনি। দীর্ঘ অসুস্থতার ক্লান্তি ছাপিয়ে প্রিয় মানুষদের কাছে পেয়ে তার মুখে ফুটে ওঠে হাসি।
শুরুতেই ইলিয়াস কাঞ্চনের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেন সুচন্দা ও চম্পা। এরপর শুরু হয় পুরোনো দিনের গল্প ও চলচ্চিত্রজীবনের নানা স্মৃতিচারণ।
একপর্যায়ে সুচন্দা ও চম্পাকে দুই পাশে বসিয়ে আড্ডায় মেতে ওঠেন ইলিয়াস কাঞ্চন। কথার ফাঁকে উঠে আসে তার কর্মময় জীবনের নানা স্মৃতি। প্রসঙ্গ আসে সুচন্দা প্রযোজিত ‘তিনকন্যা’ সিনেমারও, যেখানে অভিনয় করেছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন।
আড্ডার একপর্যায়ে সুচন্দার অনুরোধে গান ধরেন তিনি। গেয়ে শোনান ‘অচেনা’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘আর যাব না আমেরিকা’। গান গাওয়ার সময় তার সঙ্গে ঠোঁট মেলান সুচন্দা ও চম্পা। পরে আরও কয়েকটি গানও শোনান তিনি।
গান, হাসি ও স্মৃতিচারণায় পুরো বাড়িতে তৈরি হয় অন্যরকম এক আবহ। দীর্ঘ অসুস্থতার সময় পেরিয়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য যেন চলচ্চিত্রের সেই ব্যস্ত ও আনন্দময় দিনগুলোতে ফিরে যান ইলিয়াস কাঞ্চন ও তার প্রিয় সহকর্মীরা।
পরে চলচ্চিত্র অঙ্গনের আরও কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হন। ছিলেন অভিনয়শিল্পী সুব্রত, জ্যাকি আলমগীর ও প্রযোজক নেতা খোরশেদ আলম। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে যান জয় চৌধুরী ও আবীর চৌধুরী।
চম্পা সঙ্গে করে জমজমের পানি নিয়ে যান। নিজের হাতে সেই পানি ইলিয়াস কাঞ্চনকে পান করান তিনি। পাশাপাশি কয়েকটি পাঞ্জাবিও উপহার দেন। পাঞ্জাবিগুলো পরবর্তী সময়ে লন্ডনে যাওয়ার সময় সঙ্গে নেওয়ার অনুরোধ করেন চম্পা।
এর আগে গত ৩ আগস্ট যুক্তরাজ্যে ১৫ মাসেরও বেশি সময় চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরেন ইলিয়াস কাঞ্চন। জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর চেয়ারম্যান গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার পর লন্ডনে তার চিকিৎসা শুরু হয়। গত বছরের আগস্টে সেখানকার একটি হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের বড় একটি অংশ অপসারণ করতে সক্ষম হলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। পরে চিকিৎসকেরা তাকে ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানান।
অস্ত্রোপচারের পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা। প্রথম ধাপে টানা তিন মাস কেমোথেরাপির পাশাপাশি চলে ওরাল থেরাপি। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় তাকে ৬০টির বেশি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে। পরে আরও কয়েক ধাপে চিকিৎসা নেন তিনি।
দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর থেকেই সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তবে শনিবার রাতের এই আড্ডা ছিল কিছুটা আলাদা। প্রিয় সহকর্মীদের কাছে পেয়ে তার মুখে ছিল হাসি, আর কণ্ঠে ছিল গান। সুচন্দার অনুরোধে গাওয়া সেই গান যেন আরও একবার ফিরিয়ে আনল বাংলা চলচ্চিত্রের পুরোনো দিনের স্মৃতি।