https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু মানুষ দেশে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাদের কারণে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই জনগণকে সতর্ক থেকে দেশের উন্নয়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, সরকার জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ দেশের সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। অন্যদেরও জনগণের সামনে নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করা উচিত নয়।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। চলতি মাসের ১৬ তারিখ থেকে মূল কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের প্রধান নারীদের হাতে এ কার্ড দেওয়া হবে। বাঁশখালীতে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে।
তিনি আরও জানান, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হবে, যার সুবিধা পাবেন লবণ চাষীরাও। তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে শিগগিরই লবণের নতুন মূল্য নির্ধারণের ঘোষণা দেওয়া হবে।
চট্টগ্রামকে অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ী, মহেশখালী ও মীরসরাই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ের ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত পুনর্গঠনে সময় লাগবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কেমন হবে, সে বিষয়ে একটি পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
অনুষ্ঠানের আগে বাঁশখালীর বাহারছড়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারের কাছে নতুন বাড়ির চাবি হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বাড়ির আঙিনায় একটি মেহগনি গাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিবারটিকে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও হাঁস-মুরগি প্রদান করেন।