https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে দারুণ নিয়ন্ত্রণে থাকা বাংলাদেশ হঠাৎ করেই ব্যাটিং ধসের মুখে পড়েছে। একসময় ৩ উইকেটে ২৯৭ রান করা সফরকারীরা মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে আরও তিন উইকেট। নতুন বল হাতে নিয়েই ম্যাচের চিত্র বদলে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ফলে বড় লিড নেওয়ার পথে থাকা বাংলাদেশ এখন আবারও চাপে পড়েছে।
৮০ ওভার শেষে নতুন বল নেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার পেসাররা যেন পুরোপুরি নতুন প্রাণ ফিরে পান। নতুন বল হাতে দ্বিতীয় ওভারেই জশ হ্যাজলউড ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে। অতিরিক্ত বাউন্স পাওয়া বলটি শান্তর ব্যাটের কানায় লেগে দ্বিতীয় স্লিপে থাকা স্টিভ স্মিথের হাতে জমা পড়ে। ১২৬ বলের ইনিংসে ৭টি চার ও একটি ছক্কায় ৮৪ রান করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি গিয়ে তার বিদায় বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে।
শান্তর বিদায়ের পর আরও বিপর্যয় নেমে আসে দ্রুত। দীর্ঘদিন পর দলে জায়গা পাওয়া লিটন দাসও এবার ব্যর্থ হন। মিচেল স্টার্কের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে থিক এজ করেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। বল আবারও চলে যায় স্টিভ স্মিথের হাতে। ফলে কোনো রান না করেই সাজঘরে ফিরতে হয় লিটনকে।
এরপর মুশফিকুর রহিমও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। দলীয় সংগ্রহ যখন ৩০৮ রান, তখন প্যাট কামিন্সের বলে ৫৫ বলে ৩৬ রান করে আউট হন তিনি। তার ব্যাটের কানায় লেগে যাওয়া বলও ক্যাচ হিসেবে জমা পড়ে স্মিথের হাতে। মাত্র কয়েক ওভার আগেও যে বাংলাদেশ বড় লিডের স্বপ্ন দেখছিল, মুহূর্তের মধ্যে সেই দলই ছয় উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায়।
বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের শুরু অবশ্য এর কিছু আগে। দিনের শুরুতে তানজিদ হাসান ও মুমিনুল হকের ১০২ রানের জুটি অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেছিল। মুমিনুল ৪৯ রানে আউট হওয়ার পর তানজিদের সঙ্গে জুটি গড়ে পরিস্থিতি আরও শক্ত হাতে নিয়েছিলেন শান্ত।
তানজিদ এরপর নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন। ১৮৮ বলে ৮টি চার ও একটি ছক্কায় শতক পূর্ণ করে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হওয়ার কীর্তি গড়েন তিনি। তার অসাধারণ ইনিংস এবং শান্তর দৃঢ় ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ তখন অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানকে অনেক পেছনে ফেলে বড় লিডের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল।
কিন্তু তানজিদের বিদায়ের পর শান্তর উইকেট এবং এরপর লিটন ও মুশফিকের দ্রুত পতন পুরো পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। ৩ উইকেটে ২৯৭ রান থেকে ৩০৮ রানে ৬ উইকেটে পরিণত হওয়া বাংলাদেশের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো ইনিংসটিকে যতটা সম্ভব বড় করা।
এই মুহূর্তে ক্রিজে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। বাংলাদেশের হাতে স্বীকৃত ব্যাটারও খুব বেশি নেই। ফলে অস্ট্রেলিয়ার নতুন বলের এই দাপট সামলে মিরাজ কতটা লড়াই করতে পারেন, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে বাংলাদেশের লিড কত বড় হবে।
একই দিনে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানে প্রথম ইনিংস গুটিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে এমন ধস নিঃসন্দেহে হতাশাজনক। তবে এখনো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হাতছাড়া হয়নি। মিরাজ ও পরের ব্যাটাররা যদি ইনিংসটি টেনে নিতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশের হাতে ভালো লিড রাখার সুযোগ থাকছে। আর সেটিই ডারউইন টেস্টের পরবর্তী লড়াইয়ে সফরকারীদের বড় সুবিধা এনে দিতে পারে।