বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের দুই কিংবদন্তি জেমস ও আইয়ুব বাচ্চু। নব্বইয়ের দশকসহ পরবর্তী সময়ে তাদের গান ঘিরে শ্রোতাদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উন্মাদনা। পাশাপাশি দুজনের মধ্যে সংগীতের প্রতিযোগিতাও তখন ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। তবে সেই প্রতিযোগিতাকে কখনোই ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখেননি নগর বাউল জেমস।
নিজের জন্মদিন উপলক্ষে শুক্রবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সংগীতজীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন জেমস। এ সময় আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং সেই সময়ের সংগীতাঙ্গনের পরিবেশ নিয়েও কথা বলেন তিনি।
জেমস জানান, বাচ্চুর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল দারুণ। তাদের মধ্যে গানের সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বে কোনো ঘাটতি ছিল না। তখন একে অন্যের রেকর্ডিংয়েও যেতেন তারা। জেমস স্টুডিওতে গান রেকর্ড করলে বাচ্চু সেখানে চলে আসতেন, আবার বাচ্চু রেকর্ডিং করলে জেমসও গিয়ে বসতেন। সেই সময়ের স্টুডিওকেন্দ্রিক আড্ডার কথাও স্মরণ করেন জেমস। তার ভাষ্য, ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টুডিওতে বসে সংগীত নিয়ে আলোচনা করতেন শিল্পীরা। কিন্তু প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সেই পরিবেশ অনেকটাই বদলে গেছে। এখন অনেকেই হোম স্টুডিওতে কাজ করায় আগের মতো শিল্পীদের মধ্যে নিয়মিত আড্ডার সুযোগ নেই।
আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে শেষ কথোপকথনের প্রসঙ্গ উঠলে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জেমস। তবে সেই কথোপকথনের বিষয়বস্তু প্রকাশ করতে চান না তিনি। তার ভাষায়, শেষ কথাটি শুধু তার নিজের মধ্যেই থাকুক। জেমস জানান, আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে তার শেষ দেখা হয়েছিল বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। প্রিয় সহশিল্পীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে উঠে আসে তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সংগীতের সেই সুস্থ প্রতিযোগিতার দিনগুলোর কথা।
১৯৬৪ সালের ২ অক্টোবর জন্ম নেওয়া জেমস শুক্রবার জন্মদিন উদ্যাপন করছেন। আশির দশকে ‘স্টেশন রোড’ দিয়ে যাত্রা শুরু করে ‘অনন্যা’, ‘জেল থেকে বলছি’, ‘দুঃখিনী দুঃখ করো না’, ‘গুরু ঘর বানাইলা কি দিয়া’ ও ‘পাগলা হাওয়া’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বলিউডে ‘ভিগি ভিগি’ ও ‘আলবিদা’র মতো গান দিয়েও শ্রোতাদের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন এই রকস্টার।

মন্তব্য করুন