ছবি: -সংগৃহীত
অপরাধ দমনে সফলতা অর্জনকারী পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করা হবে এবং দায়িত্ব পালনে গাফিলতি বা অন্যায়ের ক্ষেত্রে তিরস্কার ও বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ।
রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনীর ভালো কাজের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে কোনো সদস্যের নিষ্ক্রিয়তা, গাফিলতি বা অপরাধে সম্পৃক্ততার ঘটনায় ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক আলোচিত রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডসহ কয়েকটি জটিল মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে। এ ধরনের সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের পুরস্কৃত করা হবে।
রামিসা হত্যা মামলার রায়কে দেশের বিচারিক ও তদন্ত ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষা ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিচারক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঈদের বিচারিক ছুটি বাতিল করে মামলার বিচারকাজ শেষ করেছেন, যা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অনন্য উদাহরণ।
মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের বিষয়ে তিনি জানান, ডেথ রেফারেন্স শুনানি আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কিছুটা অগ্রাধিকারভিত্তিতে আনার জন্য এবং -এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের তৎপরতায় অন্তত ৫০ জন বাসযাত্রীর প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। পাশাপাশি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক কিশোরী হত্যা মামলার রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করতেও পুলিশ সফল হয়েছে।
আগামী ৮ জুন থেকে চার দিনব্যাপী (বিজিবি) ও (বিএসএফ)-এর মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অবৈধ পুশ-ইন, সীমান্ত হত্যা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে। সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অপরাধ ও মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত চলমান রয়েছে। তবে কৌশলগত কারণে বিশেষ অভিযানের তথ্য আগাম প্রকাশ করা হয় না। তিনি জানান, অপরাধীরা যাতে আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিতে না পারে, সে জন্য সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও জুয়া প্রতিরোধে আধুনিক ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের কাজ করছে। এসব সংস্কার সম্পন্ন হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।