ছবি: -সংগৃহীত
ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার দিনেই টিকিট বিক্রি নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের মুখে পড়েছে আয়োজক সংস্থা ফিফা। সমর্থকদের বিভ্রান্ত করা এবং কৃত্রিমভাবে টিকিট সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে স্পন্সরশিপ ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্কও আলোচনায় এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে শুরু হওয়া এবারের বিশ্বকাপকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে মাঠের খেলার চেয়ে উদ্বোধনের আগেই নানা বিতর্ক বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সমালোচকদের একাংশের অভিযোগ, মার্কিন প্রশাসন বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরকে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি জোরদার করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। রাজনৈতিক বিতর্ক ও সমালোচনার প্রভাব কমাতে এমন আয়োজন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মত দিয়েছেন অনেকে।
ক্রীড়া দর্শন বিষয়ক গবেষকদের মতে, বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক আয়োজন শুধু ক্রীড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি প্রায়ই রাষ্ট্রের প্রভাব, অবস্থান ও কূটনৈতিক বার্তা তুলে ধরার একটি বড় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।
এর আগে বেইজিং অলিম্পিক, রাশিয়া বিশ্বকাপ এবং কাতার বিশ্বকাপ ঘিরেও একই ধরনের আলোচনা দেখা গিয়েছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফার একটি সম্মাননা দেওয়ার ঘটনাও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এবং ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
কিছু বিশ্লেষক একে ক্রীড়া ও রাজনীতির ক্রমবর্ধমান মেলবন্ধনের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিশ্বকাপের প্রধান স্পন্সরদের মধ্যে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান আরামকোর উপস্থিতিও সমালোচনার মুখে পড়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বড় ক্রীড়া আসরের অংশীদারিত্ব জলবায়ু সংকটের বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সবচেয়ে বড় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে টিকিট বিক্রি প্রক্রিয়া। নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, টিকিটের একটি বড় অংশ বাজারে না ছেড়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি স্টেডিয়ামের আসনের অবস্থান ও দৃশ্যমানতা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে, যা অনেক সমর্থকের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে।
ফিফা বলছে, বিশ্বজুড়ে ফুটবলের প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যেই টুর্নামেন্টে দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, সম্প্রসারণের পেছনে আর্থিক স্বার্থও বড় ভূমিকা পালন করেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, আধুনিক বিশ্বকাপ এখন আর শুধু ফুটবলের উৎসব নয়। এটি একই সঙ্গে রাজনীতি, অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়েছে।
ফলে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই বিশ্বকাপের বাইরের নানা বিতর্ক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।