ছবি: -সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে নতুন প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। দেশটি সাংহাই উপকূলের কাছে সমুদ্রের তলদেশে বিশ্বের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎচালিত ডেটাসেন্টার চালু করেছে, যা জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে সাংহাই লিংগাং আন্ডারসি ডেটাসেন্টার ডেমোনস্ট্রেশন প্রজেক্ট”, যা চালু হয় চলতি বছরের মে মাসে। এটি বাস্তবায়ন করেছে হাইক্লাউড টেকনোলজি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানির যৌথ উদ্যোগ।
ডেটাসেন্টারটি সাংহাই উপকূল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ মিটার গভীরে স্থাপন করা হয়েছে। এর বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে কাছাকাছি উপকূলীয় বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে, ফলে এটি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিনির্ভর একটি অবকাঠামো হিসেবে কাজ করছে।
চীনা কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, প্রচলিত স্থলভাগের ডেটাসেন্টারের তুলনায় এটি ২০ শতাংশেরও বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে সক্ষম। সমুদ্রের স্বাভাবিক শীতল তাপমাত্রার কারণে সার্ভার কুলিংয়ে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় কমে যাচ্ছে, যা সাধারণ ডেটাসেন্টারে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বড় অংশ জুড়ে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আন্ডারসি ডেটাসেন্টার ভবিষ্যতে এআই ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপও কমাতে সহায়তা করবে।
তবে পরিবেশবিদরা সতর্ক করেছেন, সমুদ্রের তলদেশে বড় অবকাঠামো নির্মাণের ফলে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে কিছু প্রভাব পড়তে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশগত প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন।
এই উদ্যোগ প্রযুক্তি, জ্বালানি ও পরিবেশ—তিন ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।