https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রায় তিন মাস পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—সামরিকভাবে এগিয়ে থেকেও তিনি কি শেষ পর্যন্ত কৌশলগতভাবে হেরে যাচ্ছেন? বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র বহু হামলা চালিয়েও এখন পর্যন্ত এমন কোনো ফল অর্জন করতে পারেনি, যাকে স্পষ্ট ভূরাজনৈতিক বিজয় বলা যায়।
যুদ্ধের শুরুতে ওয়াশিংটনের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামানো, মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের প্রভাব কমানো এবং দেশটির শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়া। কিন্তু তিন মাস পরও ইরানের সরকার টিকে আছে, তাদের আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের প্রভাবও পুরোপুরি কমানো যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইরান এখনো এমন অবস্থানে রয়েছে, যেখান থেকে তারা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্বের বড় অংশের তেল ও গ্যাস সরবরাহ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধকে ‘পূর্ণাঙ্গ সফলতা’ হিসেবে তুলে ধরলেও সমালোচকরা বলছেন, বাস্তব পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল। যুদ্ধবিরতির পরও স্থায়ী সমাধান আসেনি। বরং হামলার হুমকি, কূটনৈতিক অচলাবস্থা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এই যুদ্ধ রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াচ্ছে। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তেহরান দাবি করছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আশঙ্কা করছে, ইরান ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই ট্রাম্পের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠছে। কারণ এখন তার সামনে দুটি পথ—কোনো সমঝোতায় পৌঁছে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসা অথবা আরও বড় সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে উত্তেজনা বাড়ানো। দুটোরই রাজনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকি রয়েছে।
এ অবস্থায় অনেকেই মনে করছেন, যুদ্ধের সামরিক দিকের চেয়ে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ফলাফলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে ট্রাম্প এই সংঘাতে বিজয়ী নাকি পরাজিত হিসেবে বিবেচিত হবেন।