https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘প্রয়াস’ নামে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হওয়ার পাঁচ দিনের মাথায় মো. ফোরকান মিয়া (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, কেন্দ্রের লোকজন তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। তবে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, বাথরুমে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে ফোরকানকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
মঙ্গলবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ‘প্রয়াস’ মাদকাসক্ত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। মৃত্যুর পর আতঙ্কে কেন্দ্রের অন্য রোগীরা পালিয়ে যান। সিসিটিভি ফুটেজে ভবনের ছাদ থেকে পাইপ বেয়ে রোগীদের নেমে পালাতে দেখা গেছে।
নিহত ফোরকান নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর গ্রামের মো. রশিদ মিয়ার ছেলে। বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাজমুল হক রনি জানান, ফোরকানকে হাসপাতালে আনার সময়ই তিনি মৃত ছিলেন। পরে বুধবার দুপুরে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়।
ফোরকানের বড় ভাই মো. ইমন মিয়া বলেন, তার ভাই দীর্ঘদিন কাতারে ছিলেন। কয়েক মাস আগে দেশে ফেরার পর মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। শুক্রবার ৭০ হাজার টাকায় তিন মাসের জন্য তাকে ‘প্রয়াস’ কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ভর্তির সময় ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল।
ইমন জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কেন্দ্র থেকে ফোন করে ফোরকান অসুস্থ বলে জানানো হয় এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলা হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত হাসপাতালে গেলেও সেখানে ফোরকানকে পাননি। পরে কেন্দ্রে গিয়ে একটি লাশবাহী গাড়িতে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। কেন্দ্রের ফটকে বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল।
পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তায় ফোরকানের মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানান ইমন। তার অভিযোগ, ফোরকানকে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে কেন্দ্রের লোকজন মারধর করে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
তবে ‘প্রয়াস’ পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক মো. রুবেল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাথরুমে পড়ে গিয়ে ফোরকান আহত হন। পরে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তাকে মারধর করার অভিযোগ সত্য নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।