ঢাকা
২৪ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
খেজুর-শসার সূত্র ধরে চার খুনের রহস্য উদঘাটন ব্রাজিলের প্রতিনিধিদলের জাতীয় স্টেডিয়াম পরিদর্শন, বাংলাদেশে খেলার আগ্রহ ডিলার না আসায় গুদাম ভেঙে ১০ হাজার কেজি সার নিয়ে গেলেন কৃষকরা ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮৩৯ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে জয়শঙ্করের নতুন বার্তা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে একসঙ্গে কাজের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর নৌ ও বিমানবাহিনীর পদোন্নতিতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা, স্কুলশিক্ষকসহ পরিবারের ৪ জনকে হত্যা বিমান-পর্যটন খাতে গতি আনতে সমন্বয়হীনতা দূর করার ঘোষণা মন্ত্রী মিল্লাতের কে খুন করলো চারজনকে?

কে খুন করলো চারজনকে?

জেলা প্রতিনিধি
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬   ১৬ বার পঠিত
কে খুন করলো চারজনকে?

ছবি: -ফাইল ছবি

রংপুর নগরের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় এখনো কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী।

শনিবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে নির্মাণাধীন তিনতলা ভবন থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশগুলো পচে যাওয়ায় পুরো ভবনে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে চারজনের লাশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো মামলা হয়নি।

রংপুর সিআইডি বলছে, চারজনকে হত্যার পর ঘটনাস্থলে হত্যাকারীরা দীর্ঘ সময় অবস্থান করে থাকতে পারে। আবার ডাকাতির উদ্দেশ্যে এসে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে অন্য কোনো কারণেও হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারী দল।

পুলিশ ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, গণপতির পরিবার ভবনটির দ্বিতীয় তলায় থাকত। দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে খাটের পাশে আয়ুশের লাশ পাওয়া যায়। তাঁর গলায় কাপড় প্যাঁচানো ছিল। সিঁড়িতে পাওয়া যায় প্রীতিলতা ও আগামী চক্রবর্তীর লাশ; তাঁদের গলায় দড়ি প্যাঁচানো ছিল। আর তৃতীয় তলার ছাদে গণপতির লাশ পাওয়া যায়। তাঁর গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল।

সিআইডির প্রাথমিক ধারণা, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তাঁদের মুখ কিছুটা ঝলসানো ছিল। মুখে রাসায়নিক জাতীয় কোনো পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে বিষয়টি প্রথমে বুঝতে পারেন প্রীতিলতার ছোট বোন পূজা চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি সর্বশেষ বোন ও ভাগনির সঙ্গে কথা বলেন। পরদিন তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ পেয়ে সন্দেহ হয় তাঁর। রাতে বোনের বাড়িতে গিয়ে মূল ফটকে তালা দেখতে পান। পরে পাশের ভবন দিয়ে জানালার কাছে গিয়ে ভেতরে জিনিসপত্র তছনছ অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায়, কয়েকটি কক্ষের আলমারি ও ড্রয়ার খোলা এবং কাপড়চোপড়সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। তবে কোনো আলমারি বা ড্রয়ার ভাঙা ছিল না। ঘরের টেলিভিশন, ল্যাপটপ ও মুঠোফোনও নেওয়া হয়নি। টাকা বা গয়না খোয়া গেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রতিবেশীরা জানান, গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল বলে তাঁদের জানা নেই। ঘটনার রাতে কোনো চিৎকার বা অস্বাভাবিক শব্দও তাঁরা শুনতে পাননি।

গণপতি চক্রবর্তী প্রায় তিন বছর আগে মাছুয়াপাড়ায় নিজের জমিতে তিনতলা ভবন নির্মাণ শুরু করেন। অবসর নেওয়ার পর তিনি হোমিও চিকিৎসাও দিতেন। তাঁর মেয়ে আগামী চক্রবর্তী রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছিলেন। ছেলে আয়ুশ ছিল রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

চারজনকে কারা, কী কারণে হত্যা করেছে—এখন সেটিই তদন্তকারীদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ও সিআইডি।

August 2026
SMTWTFS
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031