https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
রংপুরে বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এসব তথ্য জানান। গ্রেপ্তার দুজন হলেন নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে ওই বাড়ির ছাদে গিয়ে ইয়াবা সেবন করছিলেন। শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গিয়ে তাদের জিজ্ঞাসা করলে পরিচয় গোপন রাখতে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।
তার চিৎকার শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠলে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মায়ের চিৎকার শুনে এগিয়ে আসা মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তীকেও গামছা ও রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রার্থীকে হত্যা করতে কয়েক মিনিট সময় লাগে। সবশেষে ঘুমন্ত অবস্থায় ১২ বছর বয়সী প্রিয়মকে কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর অভিযুক্তরা ওই বাসার একটি বাথরুমে গোসল করে। পরে ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর ও অবশিষ্ট ইয়াবা সেবন করে তারা। জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা হলে কিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে সেগুলো কাছের একটি মন্দিরের পেছনে পরিত্যক্ত স্থানে লুকিয়ে রাখে। পরে তাদের দেখানো জায়গা থেকে এসব আলামত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখাতে হত্যার পর ঘরের জিনিসপত্র ইচ্ছাকৃতভাবে এলোমেলো করে রাখা হয়। পাশাপাশি আঙুলের ছাপ মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে বাসার দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছিল।
গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো বিষয় আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।