অস্ত্র-মাদক উদ্ধার, চোরাচালান প্রতিরোধ, মানবপাচার ও বিভিন্ন অপরাধ দমনে আগস্টজুড়ে অভিযান চালিয়ে ৮০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এ সময় ৪ হাজার ৯২৯ গ্রাম স্বর্ণের বার ও অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৯ কোটি ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার ৩৮৫ টাকা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় এপিবিএন সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আগস্ট মাসের অভিযান ও সাফল্যের তথ্য তুলে ধরেন এপিবিএন সদর দপ্তরের ডিআইজি (অ্যাডমিন) ড. মোহাম্মদ শাহজাহান।

এপিবিএনের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে ৭৪৮টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি হ্যাকড ফেসবুক আইডি, ২০টি হ্যাকড হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট, দুটি হ্যাকড ই-মেইল ও একটি হ্যাকড টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট উদ্ধারের তথ্যও জানানো হয়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ৫৭২ জনকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বিকাশ ও নগদ প্রতারণার ঘটনায় উদ্ধার করা হয়েছে ৯ লাখ ৪৮ হাজার ৯১৮ টাকা।

মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ হাজার ৫২৫ পিস ইয়াবা, ৩ দশমিক ৪৯ কেজি গাঁজা, ৪৩ দশমিক ৭৫ লিটার মদ, ৩৮৭ কার্টন সিগারেট ও ২০৯টি ভেপ সিগারেট উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১১টি মামলা করে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অস্ত্রবিরোধী অভিযানে দুটি ওয়ান শুটার গান, তিন রাউন্ড গুলি ও দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করে একটি মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিভিন্ন অভিযানে আরও ৩৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ২৫ জন, এজাহারনামীয় আসামি ১৫ জন এবং সন্দেহভাজন ছয়জন। এছাড়া পুলিশ অ্যাসল্ট মামলায় ছয়জন, অন্যান্য মামলায় ৩০ জন এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চোরাচালানবিরোধী অভিযানে স্বর্ণের পাশাপাশি ২০০ গ্রাম রুপার বার, ১ দশমিক ৭৬ কেজি প্রসাধনী, ১১৫টি শাড়ি ও থ্রি-পিস, ২৬৮ কেজি খাদ্যদ্রব্য, ১৭টি ঘড়ি, ১০ কেজি ইমিটেশন জুয়েলারি এবং আরও ৩৩৭ কেজি বিভিন্ন পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে। স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় ১৭টি মামলা করে ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযানে সৌদি আরবের ৫ হাজার ৬৮৫ রিয়াল, কাতারের ৬০০ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ৩ হাজার ২৯০ রিঙ্গিত, অস্ট্রেলিয়ার ১ হাজার ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৩৫ দিরহাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ হাজার ডলার উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশি ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭৬ টাকা উদ্ধার করা হয়। জাল টাকাসহ বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে একজন নিখোঁজ শিশু ও ১৯ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে এপিবিএন। এ ঘটনায় দুটি মামলা করে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ২৩টি যানবাহন আটক করে শাহপরীর দ্বীপ হাইওয়ে থানায় পাঠানো হয়েছে।

ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দ্রুত ও কার্যকর নাগরিকসেবা দেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এপিবিএন। গোয়েন্দা তৎপরতা, অভিযান ও তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।