নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলায় আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বৈশ্বিক নিঃসরণ দ্রুত কমানো এবং জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াবহ প্রভাব বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একার পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ জন্য বৈশ্বিক সহায়তা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু অভিযোজনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ দ্রুত কমাতে হবে।
তিনি জানান, বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২৫ সেন্টিমিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় ৪ শতাংশ ভূমি পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে প্রায় এক কোটি মানুষের ঘরবাড়ি ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পদ্মা ব্যারাজ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া, তিস্তা ব্যারাজ আধুনিকায়ন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যে সৌরবিদ্যুতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সবুজ শিল্প, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, জাতীয় কার্বন বাজার এবং বন ও জলাভূমি সংরক্ষণে কাজ করছে বাংলাদেশ।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সংকট মোকাবিলায় চারটি পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। এগুলো হলো—বৈশ্বিক নিঃসরণ দ্রুত ও ন্যায়সংগতভাবে কমানো, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পূর্বানুমেয় জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তি ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্র দ্রুত উচ্চতর হচ্ছে, তাই জলবায়ু মোকাবিলায় বিশ্বের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও পদক্ষেপের গতিও বাড়াতে হবে। আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত বৈঠকে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

মন্তব্য করুন