রাজশাহীর উৎপাদন এলাকায় যে আম ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, সেই একই আম ঢাকায় গিয়ে ৮০ থেকে ৯০ টাকা, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন ক্ষেত্র থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানোর পথে পরিবহন, প্যাকেজিং, বাজারভেদে মূল্য নির্ধারণ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের মুনাফার কারণে এই বড় মূল্য ব্যবধান তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের মোকাম পুঠিয়ার বানেশ্বর হাটে বর্তমানে আম্রপালি আম ৪০–৫০ টাকা, ক্ষিরশাপাতি (হিমসাগর) ৩২–৪০ টাকা এবং গোপালভোগ ২৫–৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে একই আম রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন বাজারে ৪৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, রাজশাহী থেকে ঢাকায় আম পাঠাতে প্রতি মণে প্রায় ৩০০ টাকা প্যাকেজিং খরচ হয়। এর সঙ্গে পরিবহন ও কুরিয়ার ব্যয় মিলিয়ে প্রতি কেজিতে আরও ১২ থেকে ১৩ টাকা খরচ যোগ হয়। পরে পাইকার, আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতাদের মুনাফা যুক্ত হয়ে ভোক্তা পর্যায়ে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
ক্রেতাদের অনেকে মনে করেন, শহরের বাজারে সহজলভ্যতার কারণে কিছুটা বেশি দাম দিতে হলেও সময় ও যাতায়াত ব্যয় বাঁচে। তবে বেশি পরিমাণে আম কিনতে হলে সরাসরি হাট থেকে কেনা লাভজনক।
রাজশাহীর আম ব্যবসায়ীদের মতে, ঢাকায় অনেক সময় অন্য জেলার আমও ‘রাজশাহীর আম’ নামে বিক্রি করা হয়, যা দাম আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে বানেশ্বর হাটে ৪৫–৫৫ টাকায় পাওয়া আম ঢাকার বাজারে ৯০–১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের তদারকির কারণে এ বছর বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। তবে ঈদের পর বাজারে চাহিদা বাড়ায় আমের দামও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সামনে আরও বাড়তে পারে।