উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তাঁর মেয়ে জু আয়ে ও স্ত্রী রি সোল জুর উপস্থিতিতে একটি মধ্যম-পাল্লার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ মহড়া পর্যবেক্ষণ করেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, হাইপারসনিক কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থায় নিয়োজিত সেনাদের প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে শনিবার এই মহড়া চালানো হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পূর্ব উপকূলীয় শহর ওনসান এলাকা থেকে উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দেয়। অন্যদিকে, কেসিএনএ দাবি করেছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি সমুদ্রের একটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, যা উৎক্ষেপণস্থল থেকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে ছিল।
উত্তর কোরিয়ার দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা কম উচ্চতায় এর গতিপথ পরিবর্তনে সক্ষম। কিমের বোন কিম ইয়ো জং আরও দাবি করেছেন, এ ধরনের গতিপথের কারণে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পক্ষে ক্ষেপণাস্ত্রটির গতিপথ অনুসরণ করা কঠিন হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে উত্তর কোরিয়া কোনো স্বাধীন প্রমাণ দেয়নি।
উৎক্ষেপণের পর কিম জং উন বলেন, “আজকের এই উৎক্ষেপণ মহড়ার মাধ্যমে কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের সদস্যরা তাদের পেশাগত দক্ষতা এবং পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতি পুরোপুরি প্রদর্শন করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের কৌশলগত আক্রমণাত্মক সক্ষমতার নির্ভরযোগ্যতা ও বিধ্বংসী ক্ষমতা সম্পর্কে শত্রুপক্ষকে ক্রমাগত ও বারবার বোঝানোর জন্য আমাদের দায়িত্বশীল প্রচেষ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যেতে হবে।”
কেসিএনএ জানিয়েছে, এই মহড়ার উদ্দেশ্য ছিল কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থার প্রশিক্ষণ এবং দেশটির প্রতিরোধক্ষমতার নির্ভরযোগ্যতা ও কার্যকারিতা যাচাই করা। কিমের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের মহড়া উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা আরও দ্রুত উন্নয়নের প্রচেষ্টার অংশ।
কেসিএনএ প্রকাশিত ছবিতে কিমকে তাঁর মেয়ে জু আয়ে ও স্ত্রী রি সোল জুর সঙ্গে দেখা যায়। ২০২২ সালে প্রথমবার জনসমক্ষে আসার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক আয়োজনে জু আয়ের উপস্থিতি বেড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা তাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে; তবে উত্তর কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো উত্তরাধিকার ঘোষণা করেনি।
এই উৎক্ষেপণের সময় দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনাও চলমান। সম্প্রতি ডিমিলিটারাইজড জোন বা ডিএমজেডে একটি মাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। সিউল এ ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করে ক্ষমা চাইলেও পিয়ংইয়ং দায় অস্বীকার করেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।



মন্তব্য করুন